১০ বছর পর বিশ্বকাপ খেলার আনন্দ বুঝি এমনই হয়। ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে গতকাল যেখানেই চোখ গেছে, দেখা গেছে নীল-লালের সমারোহ। সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে হলেও মনে হয়েছে নেপালের কোনো মাঠেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচটা খেলছে নেপাল।
২০১৪ সালে সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছিল নেপাল। এশিয়ার দলটির জন্য এটা ছিল সবশেষ কোনো আইসিসি ইভেন্টও। ডালাসে গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সমর্থন দিতে প্রবাসী নেপালি দর্শকদের ঢল নামে। গ্যালারিতে নেদারল্যান্ডসের চেয়ে নেপালের ভক্ত-সমর্থকেরা সংখ্যায় ছিলেন অনেক অনেক বেশি। যদিও নেদারল্যান্ডসের কাছে গত রাতে ৬ উইকেটে হেরেছে নেপাল। ডালাসের গ্যালারিতে এত নেপালের ভক্ত-সমর্থক দেখে রীতিমতো অবাক দলটির অধিনায়ক রোহিত পাউডেল। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নেপালি অধিনায়ক বলেন, ‘ভক্ত-সমর্থকদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মনে হচ্ছিল যে আমরা নেপালে খেলছি।’
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ডালাসে নেপালি দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি রানা আব্বাস। দর্শকদের আফসোস যে ডালাসে নেপালের আর কোনো ম্যাচ নেই। ১২ জুন ফ্লোরিডায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে নেপাল। নেপালের বাকি দুই ম্যাচ সেন্ট ভিনসেন্টে ১৫ ও ১৭ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে। ১৭ জুন নেপাল ম্যাচটির ওপর বাংলাদেশের সুপার এইটে যাওয়ার অনেক কিছু নির্ভর করতে পারে। সেন্ট ভিনসেন্টে অবশ্য অত নেপালি দর্শক থাকার কথা নয়। সেদিক থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত-সাকিব আল হাসানরা একটু ‘স্বস্তি’তে থাকতে পারছেন। প্রতিপক্ষ দলের পূর্ণ সমর্থকের সামনে খেলতে যেকোনো দলেরই একটু কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। আজকের পত্রিকাকে দর্শকেরা জানিয়েছেন, সেন্ট ভিনসেন্টে নেপাল একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে। তবে তাঁদের অনেকে সাকিবের বড় ভক্ত।
শুধু ডালাসই নয়, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতেও ছিল ভক্ত-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়। নেপালি দর্শকদের ঢল নজর কেড়েছে আইসিসিরও। ওপরে কাঠমান্ডু, নিচে ডালাস—দুই এলাকায় নেপালি ভক্ত-সমর্থকদের উন্মাদনার ছবি জুড়ে দিয়ে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আজ তা বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৫৯ মিনিটে পোস্ট করেছে। ক্যাপশনে লেখা, ‘দিন হোক বা রাত। কাঠমান্ডু থেকে ডালাস, নেপালি সমর্থকেরা আছেন বিশ্বজুড়ে।’ পোস্ট করার পর ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত ১৩ হাজারের মতো প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মন্তব্য হয়েছে ২৮৫টি। ২৯০ বার শেয়ার হয়েছে।’