পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নানা অনিয়ম নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দলটির সাবেক কোচ গ্যারি কারস্টেন। পাকিস্তান দলের দায়িত্বে থাকার সময় হস্তক্ষেপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ক্রিকেটার। মূলত এ জন্যই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরে দাঁড়ান তিনি।
২০২৪ সালের এপ্রিলে সাদা বলের কোচ হিসেবে কারস্টেনকে নিয়োগ দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে মাত্র ছয় মাস যেতেই পদত্যাগ করেন তিনি। সে সময় দায়িত্ব ছাড়া নিয়ে কিছু না বললেও লম্বা সময় পর পাকিস্তান ক্রিকেটে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বললেন কারস্টেন।
কারস্টেনের দাবি, পাকিস্তান দলে কোচ হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ খুবই কম। কোচদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন বিভিন্ন বোর্ড কর্তারা, যেটা কোচদের কাজকে অনেক কঠিন করে তোলে। তা ছাড়া দল প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স না করলে কোচদের জন্য ছিল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। তাতে হিতে বিপরীত হতো বলে জানালেন তিনি।
শনিবার টকস্পোর্ট ক্রিকেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারস্টেন বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি যেটা আমাকে অবাক করেছে, তা হলো হস্তক্ষেপের মাত্রা। এর আগে আমি কখনো এতটা দেখিনি। এটা কি আমাকে অবাক করেছে? ঠিক জানি না, তবে বিষয়টা ছিল বেশ গুরুতর। বাইরের এই লাগাতার হস্তক্ষেপের কারণে একজন কোচের জন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজের একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা দাঁড় করানো খুব কঠিন হয়ে যায়। সব সময় বাইরে থেকে একটা চাপ, একটা আওয়াজ থাকে। পারফরম্যান্স খারাপ হলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে বিষয়টা ছিল কঠিন।’
কোচদের সঙ্গে অবিচার নিয়ে কারস্টেন বলেন, ‘দল ভালো না খেললে সবচেয়ে সহজ টার্গেট হয়ে যান কোচ। তখন বলা হয়—কোচকে বাদ দাও, কিংবা কোচের ওপর বিধিনিষেধ চাপাও। কিন্তু আমার মতে এটা উল্টো ফল দেয়। তাহলে কোচ নিয়োগ দেওয়ারই বা মানে কী?’
পিসিবি কর্তাদের প্রতি অভিযোগ থাকলেও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন কারস্টেন, ‘আমি সত্যিই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করতে উপভোগ করেছি। যেকোনো সংস্কৃতির পেশাদার ক্রিকেটাররা দারুণ মানুষ। আমরা সবাই ক্রিকেট ভালোবাসি, একসঙ্গে কাজ করতে ভালোবাসি। ভাষাগত কিছু বাধা থাকলেও ক্রিকেটের ভাষা সবারই একই। মাঠের কথা আমরা সহজেই বুঝে নিতে পারি। তাই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করতে আমি দারুণ আনন্দ পেয়েছি।’