নিউজিল্যান্ডের নামের পাশে পয়েন্ট একটা আছে বটে, শ্রীলঙ্কার সেটিও নেই। তবে তা থাকুক আর না থাকুক—সেমিফাইনালের আশা জিইয়ে রাখতে হলে দুই দলের জন্যই চাই জয়। কাজেই নামে এটি সুপার এইটের ম্যাচ হলেও শ্রীলঙ্কা কিংবা ইংল্যান্ডের জন্য তা নকআউটের শামিল!
আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে নকআউট ম্যাচের কথাই বললেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, ‘সুপার এইটের প্রতিটি ম্যাচই একরকম নকআউট। আমরা জানি, শ্রীলঙ্কার জন্যও পরিস্থিতি একই।’ নকআউট বলেই জয়ের আকাঙ্ক্ষাটাও তীব্র স্যান্টনারের, ‘আমরা চাই আগামীকাল (আজ) জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে।’
জিততে হলে কী করতে হবে, সেটাও বুঝে গেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে যথাযথভাবে সামলাতে হবে লঙ্কান স্পিনারদের। শ্রীলঙ্কার পিচ চিরাচরিতভাবেই স্পিন-সহায়ক। তার ওপর দলটির আছে বৈচিত্র্যময় সব স্পিনার। আজ কলম্বোর যে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলবে নিউজিল্যান্ড, সেই স্টেডিয়ামেই পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচটি ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বৃষ্টি। ভারতে গ্রুপ পর্ব খেলে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের
কলম্বোয় আসা সপ্তাহখানেক হয়ে গেলেও এখানকার পিচে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি। তাই ম্যাচের আগে এটাকেই একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন স্যান্টনার, ‘যখন আপনি দুটি দেশে টুর্নামেন্ট খেলবেন, তখন এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা চেন্নাই ও আহমেদাবাদের ফ্ল্যাট পিচে খেলেছি, আর এখানে আমাদের খেলার ধরনে কিছুটা ভিন্নতা আনতে হবে।’ এরপরই বললেন এই ম্যাচ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতির কথা, ‘আমরা ১৫ সদস্যের দল এমনভাবেই নির্বাচন করেছি, যেন আমরা জানি, আমাদের ফ্ল্যাট পিচের পাশাপাশি কিছুটা ধীরগতির পিচেও খেলতে হতে পারে।’
প্রেমাদাসায় স্পিন বেশি ধরলে নিজেদের হাতে অপশন থাকার কথাও জানালেন স্যান্টনার, ‘আমাদের দলে স্পিন বোলিংয়ের বেশ কিছু অপশন রয়েছে, যেটা আমাদের জন্য স্বস্তির। তবে মূল বিষয় হলো মাঠে নেমে পরিস্থিতির সঙ্গে যতটা দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নেওয়া।’
শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে খেললেও কাগজে-কলমে কিন্তু নিউজিল্যান্ডই ফেবারিট। আইসিসি টি-টোয়েন্টি দলগত র্যাঙ্কিংয়ে চার নম্বরে নিউজিল্যান্ড। তাদের চেয়ে আরও চার ধাপ পেছনে, ৮ নম্বরে শ্রীলঙ্কা। এখানেই শেষ নয়, মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে সফরকারীরাই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৮ বারের সাক্ষাতে নিউজিল্যান্ডের ১৬ জয়ের বিপরীতে শ্রীলঙ্কার জয় ৯টি।
তবে র্যাঙ্কিং কিংবা পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকাটাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্যান্টনার। উল্টো তিনি জোর দিচ্ছেন নিজেদের সেরাটা খেলার ওপরই, ‘আমরা জানি, শ্রীলঙ্কা নিজেদের মাঠে অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং তারা জানে, এই উইকেটে কী করতে হবে। আমাদের কাজ হলো সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া এবং কাল দল হিসেবে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া।’
নিজেদের উজাড় করে খেলার কথা বললেন দুনিত ভেল্লালাগেও। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন লঙ্কান এই স্পিনার। বললেন, ‘আমিসহ দলের সবাই এই ম্যাচে নিজেদের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব।’ বললেন জয়ের কথাও, ‘আমরা দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে চাই। আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো; আমরা প্রচুর অনুশীলন করছি এবং কোচরা আমাদের দারুণ সমর্থন দিচ্ছেন। আশা করি, আগামী দুই ম্যাচে আমরা ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াব।’
ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সুপার এইট শুরু করা শ্রীলঙ্কার সমর্থকদেরও আশা, ঘুরে দাঁড়াবে শ্রীলঙ্কা।