পাকিস্তানের বিপক্ষে গত দুই বছরে দুর্দান্ত খেলছে বাংলাদেশ। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই এই সময়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ প্রধান কোচ ফিল সিমন্স তাঁকাতে চান শুধুই বর্তমানে। যা হয়ে গেছে, সেটা তাঁর কাছে শুধুই ইতিহাস।
২০২৪ সালে সবশেষ টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। পাকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশের প্রধান কোচ ছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তাঁকে (হাথুরু) তৎকালীন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বরখাস্ত করেছিলেন। পাপনের পরিবর্তে তখনই প্রধান কোচের চেয়ারে বসেন সিমন্স। আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে দুই বছর আগের সেই সিরিজের কথা উল্লেখ করা হলে সিমন্স বলেন, ‘ওটা এখন ইতিহাস। আমরা এখন নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। তাই আমরা শুক্রবারের দিকে তাকিয়ে আছি এবং সেদিন কী হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছি। অতীতে কী হয়েছে তা এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাইয়ের পর বাংলাদেশ ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি দুটি সিরিজ জিতেছে ঘরের মাঠে। গত বছরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আর এ বছরের ওয়ানডে সিরিজ—দুটিই ২-১ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ। দুই সিরিজের ছয়টি ম্যাচই হয়েছে মিরপুরে।
এবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের প্রথম টেস্ট মিরপুরে শুরু হবে পরশু। আজ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে যখন সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স এসেছেন, তখন তাঁর কাছে পাকিস্তানের মাঠে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের প্রসঙ্গ এসেছে। সিমন্সের মতে অতীত থেকে শুধু অনুপ্রেরণাই নেওয়া সম্ভব। তিনি থাকতে চান বর্তমানেই। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘বিষয়টি মাথায় রাখা যেতে পারে কারণ শেষ ম্যাচে জয় পাওয়াটা আত্মবিশ্বাস জোগায়। কিন্তু এটি একটি নতুন ম্যাচ এবং নতুন জায়গা। আমরা এখন বাংলাদেশে খেলছি। পাকিস্তানে নয়। তাই আমাদের অতীত ভুলে শুক্রবারের ম্যাচে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেবল টেস্টই খেলেন মুশফিকুর রহিম। সবশেষ গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার কীর্তি গড়েছেন মুশফিক। পরশু মিরপুর টেস্ট দিয়ে ছয় মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে যাচ্ছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে খেলা বাংলাদেশের এই ক্রিকেটারকে নিয়ে সিমন্স বলেন, ‘মুশিকে যতটুকু সময় ধরে চিনি, তাতে বলতে পারি—প্রথম টেস্ট বা ৫০তম কিংবা শততম টেস্টের মতো করেই ১০১তম টেস্টের প্রস্তুতি নেবে। যেভাবে টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতি নেয় এবং বিষয়গুলোকে যেভাবে দেখে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।’
৮৯ ও ৬৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ৬ ও ৯ নম্বরে অবস্থান করছে। এবার বাংলাদেশ সফরে তারা চার নতুন ক্রিকেটার নিয়ে আসছে। তবে দলটা একেবারে হেলাফেলা করার মতো নয়। সাজিদ খান ও নোমান আলীর মতো দুই তারকা স্পিনার আছেন। ঘরের মাঠে গত এক বছরে পাকিস্তানি এই দুই স্পিনার প্রতিপক্ষকে রীতিমতো ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন। এমনকি সাজিদ-নোমানের বাংলাদেশের মাঠেও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ঘরের মাঠের সুবিধা কি এবার নেবে বাংলাদেশ—এই প্রশ্নের উত্তর সিমন্স দিয়েছেন একটু কৌশলে। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রধান কোচ বলেন, ‘ঘরের মাঠের সুবিধা বলতে আপনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা আমি ঠিক জানি না। এটি একটা ভালো ক্রিকেট পিচ হতে যাচ্ছে এবং আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে যে আমরা তাদের বিপক্ষে কীভাবে ব্যাটিং করব। আপনি যদি র্যাঙ্কিংয়ের ওপরে উঠতে চান, তবে আপনাকে এ ধরনের বিশ্বমানের বোলারদের বিপক্ষেই খেলতে হবে। একটি দল হিসেবে আমরা জানি যে আমাদের দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করতে হবে এবং বড় স্কোর গড়তে হবে। প্রত্যেকেই এখন সেই মানসিকতা নিয়ে আছে যে আমাদের বড় রান করতে হবে। এটা একটি ইতিবাচক দিক।’
বাংলাদেশ সিরিজে সাবেক ক্রিকেটাররা আসছেন পাকিস্তানের কোচ হয়ে। পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদের সঙ্গে ব্যাটিং কোচ ও বোলিং কোচের দায়িত্বে থাকছেন আসাদ শফিক ও উমর গুল। সাবেক ক্রিকেটারদের কোচ হয়ে আসার এই সিরিজটা স্মরণীয় করতে চান আফ্রিদি, ‘তারা সবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। পাকিস্তান দলকে কোচিং করাচ্ছেন। আমরা সবাইকে সম্মান করি। সরফরাজ আহমেদ আমাদের সঙ্গে খেলেছেন। আমি প্রথম ম্যাচ খেলার সময় তিনি অধিনায়ক ছিলেন। এগুলো মনে আছে। সবাইকে তিনি চেনেন। সবাই তাঁর (সরফরাজ) সঙ্গে কাজ করছে। একসঙ্গে আমরা দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
বাংলাদেশ সবশেষ গত বছরের নভেম্বরে টেস্ট খেললেও আয়ারল্যান্ড সিরিজটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ সবশেষ খেলেছে গত বছরের জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। লঙ্কায় অনুষ্ঠিত সেই সিরিজটি শ্রীলঙ্কা ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল।