৪১৩ রানকে টেস্টে যেকোনো বিচারেই বড় সংগ্রহ বলতে হয়। তার ওপর সবুজ উইকেট হলে তো কথাই নেই। তবে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান বোঝাচ্ছে, রান কম করে ফেলেছে বাংলাদেশ। আজান আওয়াইস, ইমাম উল হক, আব্দুল্লাহ ফজলের ব্যাটে বাংলাদেশকে দারুণ জবাবই দিচ্ছে সফরকারী দল।
বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান করেছে পাকিস্তান। আজান ৮৫ এবং ফজল ৩৭ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন। প্রথম ইনিংসের বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ২৩৪ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান। তবে হাতে থাকা ৯ উইকেট বেশ নির্ভার রাখছে শান মাসুদের দলকে। বাংলাদেশের বোলাররা ঘুরে না দাঁড়াতে পারলে লিড নেবে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের দারুণ জবাবের পরিবর্তে চিত্রটা ভিন্নও হতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দুটি ক্যাচ ছেড়েছেন স্বাগতিক ফিল্ডাররা। ইনিংসের অষ্টম ওভারে ইমামের ক্যাচ ছাড়েন মাহমুদুল হাসান জয়। ব্যক্তিগত ২৩ রানে নতুন জীবন পেয়ে অবশ্য ইনিংস খুব বেশি বড় করতে পারেননি পাকিস্তানি ওপেনার। ২২ তম ওভারের শেষ বলে তাঁকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। তার আগে ৬ বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করেন ইমাম। বিদায় নেওয়ার আগে পাকিস্তানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে আজানের সঙ্গে যোগ করেন ১০৬ রান।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চিন্তা এখন আজানকে নিয়ে। সাবলীল ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ফজলকে নিয়ে রানের চাকা সচল রেখেছেন এই ওপেনার। ৭৩ রানের নিরবচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিনের খেলা শেষ করেছেন তাঁরা। আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার আগেই তৃতীয় দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙাই এখন বাংলাদেশের বোলারদের প্রধান লক্ষ্য।
শেষ বিকেলে বাংলাদেশের হতাশাটা আরও একটু বড় করেছেন সাদমান ইসলাম। তাসকিন আহমেদের করা ৪৩ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন ফজল। দেরিতে করা চেষ্টায় বল স্পর্শ করতে পারলেও ক্যাচ তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন সাদমান। তখন ২৮ রানে ব্যাট করছিলেন ফজল। সুযোগ পেয়ে নিজের ইনিংসকে ঠিক কতদূর নিয়ে যেতে পারেন এই টপঅর্ডার ব্যাটার, সেটা সময়ই বলে দেবে।