স্কোরকার্ড দেখে হয়তো অনেকেই বলবেন পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ আয়েশি ম্যাচ জিতেছে। তবে ১০৪ রানের জয় তো ম্যাচের পুরোটা বলছে না। তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে বৃষ্টির বাগড়ায় কম খেলা হওয়ায় বাংলাদেশের জয় নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল। ড্র-ই ম্যাচের সম্ভাব্য পরিণতি মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ বিকেলে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ।
গতকাল চতুর্থ দিনে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল দ্রুত রান তুলে পাকিস্তানকে যথাসম্ভব বেশি সময় ব্যাটিংয়ে পাঠালে বাংলাদেশ জিতবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। শিষ্যরা আজ তা-ই করলেন। চতুর্থ দিনের সঙ্গে আজ শেষ দিনে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান যোগ করার পর ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকেরা। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায়। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘তাড়াতাড়ি ইনিংস ঘোষণা করার কারণ আমাদের মানসম্মত বোলিং আক্রমণ রয়েছে।’
মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে শান্ত ছিলেন পুরোদস্তুর ‘ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির (১০১) পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৮৭ রান। ১৮৮ রানের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে তিনটা ক্যাচ ধরেছেন শান্ত। অধিনায়ক হিসেবেও তাঁর শরীরী ভাষা ছিল অন্যরকম। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে শান্তর হাতেই। ১০৪ রানের বিশাল জয়ের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমি সবসময় চিন্তা করি দলের কী প্রয়োজন এবং প্রতিটি ম্যাচে সেই অনুযায়ী অবদান রাখার চেষ্টা করি। এই কন্ডিশনে রানা, তাসকিন ও তাইজুল সত্যিই দারুণ বোলিং করেছে। আমি তাদের কাছ থেকে এটাই চাই।’
শান্তর পর মুমিনুল হকও দুই ইনিংসে ফিফটি করেছেন (৯১ ও ৫৬ রান)। প্রথম ইনিংসে মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে ৭১ রান। পাশাপাশি বোলাররা ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসে ১০৪ রানে ১ উইকেট পাওয়া রানা দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট। রানার পাশাপাশি তাইজুল ইসলাম (৪), তাসকিন আহমেদ (৪), মেহেদী হাসান মিরাজও (৬) দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। যাঁদের মধ্যে মিরাজের প্রথম ইনিংসে ফাইফার ছিল।
সতীর্থদের পারফরম্যান্সে রীতিমতো মুগ্ধ শান্ত। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে শুরুর কয়েক ঘণ্টা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমার মতে মুমিনুল ভাই অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। অতিরিক্ত বাউন্স ছিল। কিন্তু আমরা ভালো শট খেলেছি। বিশেষ করে মুমিনুল ভাই এবং মুশফিকুর ভাই খুব ভালো ব্যাটিং করেছেন।’
প্রথম টেস্ট জয়ের পর সিরিজ জিততে হলে দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করলেও চলবে। যদি সিলেটে দ্বিতীয় টেস্ট জেতে, তাহলে টেস্টে দুইবার পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ করেছিল শান্তর নেতৃত্বেই। তবে মিরপুরে আজ জিতে দিনটা নিজেদের মতো করে উদযাপন করতে চান শান্ত-মুশফিকরা। ১০৪ রানে জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘খুবই আনন্দিত। সবাইকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে, যেভাবে আমরা খেলেছি। গত কয়েক মাস ধরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আজ আমরা উদযাপন করব। তারপর সিলেটে কন্ডিশন মূল্যায়ন করে সেখানে কীভাবে খেলব তা পরিকল্পনা করব।’