ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে ২০২৪ সালের ৮ জুন তারিখে ফেরা যাক। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৮৪ রানে হারিয়েছিল আফগানিস্তান। কিউইদের সেবার সুপার এইটে না উঠতে পারার নেপথ্যে এই বিশাল হার একটা কারণ ছিল। ২০ মাস পর আজ চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই হারের প্রতিশোধ নিল।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আক্ষরিক অর্থেই ‘ডি’ গ্রুপকে মৃত্যুকূপ বলা যায়। নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা তিন পরাশক্তির সঙ্গে পড়েছে কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেই গ্রুপ অব ডেথের প্রথম ম্যাচ আজ শুরু হয়েছে আফগানিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে। চেন্নাইয়ে আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করেছে নিউজিল্যান্ড।
১৮৩ রানের লক্ষ্যে নেমে ১.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১৪ রানে পরিণত হয় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে ফিন অ্যালেন (১) ও রাচীন রবীন্দ্রকে (০) ফেরান মুজিব উর রহমান। দুই ব্যাটারকেই বোল্ড করেছেন মুজিব। সাময়িক চাপে পড়া নিউজিল্যান্ডের হাল ধরেন টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপস। তৃতীয় উইকেটে ৪৭ বলে ৭৪ রানের জুটি গড়েন তাঁরা (সাইফার্ট-ফিলিপস)।
দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফিলিপসকে বোল্ড করেন রশিদ খান। ২৫ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ফিলিপস করেন ৪২ রান। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে সাইফার্ট তাঁর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি তুলে নেন। যদিও এই ফিফটি নাও পেতে পারতেন নিউজিল্যান্ডের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সাইফার্টকে কট এন্ড বোল্ডের সুযোগ মিস করেন রশিদ খান। ৪৮ রানে বেঁচে যাওয়া সাইফার্ট আরও বেশি বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে মোহাম্মদ নবিকে টানা দুটি ছক্কা মারেন সাইফার্ট।
জোড়া ছক্কা মারার পর নবির বলে একটি চারও মারেন সাইফার্ট। ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে বিধ্বংসী সাইফার্টকে ফেরান নবি। ৪২ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় সাইফার্ট করেন ৬৫ রান। তাঁর বিদায়ে নিউজিল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায় ১২.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৪ রান। সাইফার্ট আউট হওয়ার পর হাতে ৬ উইকেট নিয়ে শেষ ৪৩ বলে ৫৯ রান দরকার হয় কিউইদের। মার্ক চ্যাপম্যানের ক্যামিও ইনিংসে জয়ের অনেক কাছাকাছি পৌঁছে যায় কিউইরা। ১৭ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ রান করা চ্যাপম্যানকে ফেরান আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
চ্যাপম্যানের বিদায়ের পর ১৩ বলে খেলা শেষ করে দেয় নিউজিল্যান্ড। ষষ্ঠ উইকেটে ১৩ বলে ২৮ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন মিচেল স্যান্টনার ও ড্যারিল মিচেল। যাঁর মধ্যে স্যান্টনার ৮ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় করেন ১৭ রান। ১৭তম ওভারের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে জিয়াউর রহমানকে চার ও ছক্কা মারেন স্যান্টনার। ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে ওমরজাইকে লং অনে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে খেলা শেষ করেন মিচেল। তাতে ১৩ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় পায় নিউজিল্যান্ড।
চেন্নাইয়ে আজ টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান। পাওয়ারপ্লেতে (প্রথম ৬ ওভারে) ২ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান করে রশিদের দল। রয়েসয়ে শুরু করা আফগানিস্তান ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে থাকে। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়েন গুলবাদিন নাইব ও সেদিকউল্লাহ আতাল। তিন নম্বরে নামা গুলবাদিন ৩৫ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৬৩ রান। যা আফগানিস্তানের ইনিংসে সর্বোচ্চ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে আফগানরা।
নিউজিল্যান্ডের লকি ফার্গুসন ৪ ওভারে ৪০ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন রাচীন রবীন্দ্র, ম্যাট হেনরি ও জ্যাকব ডাফি। যাঁর মধ্যে রাচীন ১ ওভারে ১৪ রান খরচ করে এক উইকেট নিয়েছেন। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে রাচীনকে ছক্কা মারেন গুলবাদিন। ঠিক তার পরের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে গুলবাদিন সোজা আকাশে বল তুলে দেন। নিউজিল্যান্ডের উইকেটরক্ষক সাইফার্ট সহজেই সেটা তালুবন্দী করেন। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটরক্ষক হিসেবে দুই ক্যাচ ধরে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।