মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট জিতলে ‘এক ঢিলে দুই পাখি’ মারত পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের টেস্ট সিরিজ তখন হতো ১-১ সমতা। একই সঙ্গে তা পাকিস্তানের জন্য হতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ১৯৯৫ সালের পর টেস্ট জয়। তবে শেষ পর্যন্ত জেতা হয়নি পাকিস্তানের।
বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৩১৭ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের স্কোর এক পর্যায়ে হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৬২ রান। তবু জয়ের সম্ভাবনা ভালোই ছিল পাকিস্তানের। আগা সালমান-মোহাম্মদ রিজওয়ান ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৮৮ বলে ৫৭ রানের জুটি। রিজওয়ানের উইকেট নিয়ে জুটি ভেঙেছেন কামিন্স। এই রিজওয়ানের আউট নিয়েই যত বিতর্ক। ৬১ তম ওভারের চতুর্থ বলে রিজওয়ানের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের আপিল করেন প্যাট কামিন্স। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দেওয়ায় রিভিউ নেয় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ আউট ঘোষণা করেন। কেননা বল রিস্টব্যান্ড ঘেঁষে চলে যাওয়ায় আল্ট্রাএজে স্পাইক ধরা পড়ে। রিস্টব্যান্ডকেও ধরা হয়েছে গ্লাভসের অংশ। তাতে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে রিজওয়ানকে।
রিজওয়ানের উইকেটের পরই ভাঙন ধরেছে পাকিস্তানের ইনিংসে। ১৮ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান অলআউট হয়েছে ২৩৭ রানে। তাতে এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ হেরে যায় পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে সংবাদসম্মেলনে মোহাম্মদ হাফিজ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিজওয়ানের আউট নিয়ে। হাফিজ বলেন, ‘আমার মতে, উল্টোপাল্টা আম্পায়ারিং ও প্রযুক্তির ঝামেলাই আমাদের ভুগিয়েছে। ম্যাচ শেষে রিজওয়ানের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সে সত্যিই খুব সৎ। এমনকি তারও মনে হয়নি যে বল গ্লাভস বা তার কাছাকাছি কোথাও লেগেছে। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করতে পর্যাপ্ত কিছু ছিল না।’
রিজওয়ানের উইকেট নিয়ে ম্যাচ চলার সময়ই চ্যানেল সেভেনের সঙ্গে কথা বলেন সাইমন টফেল। আইসিসির সাবেক এলিট প্যানেলের আম্পায়ার বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, গ্লাভসের সঙ্গে থাকা রিস্টব্যান্ডের ওপরে ছিল। সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য রিচার্ড ইলিংওয়ার্থের কাছে যথেষ্ট ছিল।’