ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই আহ্বায়ক অভিযোগ করেছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘সম্মতিতে’ এবং ঢাকা-৮ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ‘নির্দেশে’ তাঁর দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা করা হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি আঘাত আসে, তাহলে পাল্টা আঘাত আসবে। নির্বাচন কমিশন যদি নীরব ভূমিকা পালন করে, পুলিশ যদি নীরব ভূমিকা পালন করে, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে যা করণীয়, আমরা তা করব। একদলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্য দলের প্রার্থীদের ওপরেও ডিম পড়বে।’
রাজধানীর ফকিরাপুলে একটি হোটেলে আজ মঙ্গলবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
রাজধানীর শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে আয়োজিত পিঠা উৎসবে এ দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সে সময় তাঁকে ও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুড়ে মারা হয়। দেওয়া হয় ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগানও।
হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা’ হয়েছে উল্লেখ করে এর জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ফকিরাপুলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ‘আজকে যেটা হয়েছে, এটা খুবই দুঃখজনক। খুবই ন্যক্কারজনক। এটা অস্বীকারের চেষ্টা আরও বেশি ন্যক্কারজনক। কলেজে চিহ্নিত ছাত্রদলের ক্যাডার সন্ত্রাসীরা পরিকল্পনা করে এটা করেছে। মির্জা আব্বাসের নির্দেশে, তারেক রহমানের সম্মতিতে এই ঘটনা আজকে ঘটেছে। আপনারা একদিকে ভালো ভালো কথা বলবেন, আরেক দিকে বিরোধীদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পুনর্বাসন করবেন—এটা আমরা বাংলাদেশে হতে দিব না। আজকে আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি নির্বাচন কমিশনের প্রতি। দেখতে চাই, তারা এর কী ব্যবস্থা নেয়। কলেজ প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়। বিএনপি দলীয়ভাবে কী ব্যবস্থা নেয়।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়েও এ সময় মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মির্জা আব্বাসের ইতিহাস আমরা জানি। আমরাও এই ঢাকা শহরে বড় হয়েছি। জিয়াউর রহমান মির্জা আব্বাসকে ডেকে একটা হোন্ডা আর ৩০ টাকা দিয়ে বলেছিলেন, “আমার সঙ্গে রাজনীতি করো এবং ইলেকশনে কাজ করো।’’ ওইখান থেকে বিএনপির সঙ্গে তাঁর রাজনীতিতে যাত্রা। সেই জায়গা থেকে তিনি ঢাকা শহরে সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন। এই সাম্রাজ্য কীভাবে হইছে, তা এই ঢাকা শহরের মানুষ জানে, বাংলাদেশের মানুষ জানে।’
এ সময় মির্জা আব্বাসের উদ্দেশে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আগে যা করেছেন, সেই আচরণ যদি পরিত্যাগ করতে না পারেন, তাহলে এবার নির্বাচনে এর পরিণতি ভালো হবে না। নির্বাচন মানে কথার লড়াই। আপনি একটা কথা বলবেন, আমি একটা কথা বলব। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে—তারা কাকে ভোট দেবে। আপনারা জনগণকে কেন সিদ্ধান্ত নিতে দিচ্ছেন না? জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করবে—কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার; কে সন্ত্রাসী আর কে জনগণের পক্ষে কথা বলে।’
দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তারেক রহমান জনসভায় একটি ‘পরিকল্পনার’ কথা বলেছিলেন।
সে প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ‘সকল কিছু একটা প্ল্যানের (পরিকল্পনা) অংশ—যেই পরিকল্পনা, যেই প্ল্যানের কথা আমরা শুনে আসছি তারেক রহমান দেশে আসার পর থেকে। সেই প্ল্যান হলো—“ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ” জোট যেহেতু জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছে, তাদের প্রার্থীরা জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছে, ফলে তাদের প্রার্থীকে আক্রমণ করা, হেনস্তা করা, তাদের গণসংযোগে বাধা তৈরি করা, নির্বাচন কমিশন ও মিডিয়ার ওপর চাপ তৈরি করা এবং নির্বাচনকে একপাক্ষিক করা, নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করা এবং নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। যদি সে ধরনের কোনো প্ল্যান থেকে থাকে, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারি সেই প্ল্যানের রফাদফা হবে এই বাংলাদেশে।’
সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘মির্জা আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের ওপর হামলা করেছে। ছাত্রদলের যারা হামলা করেছে, আমি পুরো বাংলাদেশের কাছে তাদের বিচার দিলাম।’
এ সময় মির্জা আব্বাসকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের দাবি জানান ঢাকা-৮ আসনের এই প্রার্থী।