হবিগঞ্জে হামলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর এক চোখে গুরুতর আঘাতের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না; সংস্কার ও বিচার—দুটিই হবে।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে (আইডিইবি) ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন ‘এখানে লেখা আছে, আলিফের চোখ ফিরিয়ে দিন, ফিরিয়ে দিতে পারবে? কোথা থেকে দিবে, নিজেরই তো চোখ নাই। চোখ থাকলে কী আলিফের সেই কান্নাটা দেখত না। আলিফের চিকিৎসার ব্যবস্থা করত না?’
ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে জানান, নাসীরুদ্দীন। তিনি বলেন, বড় জেল, ছোট জেল কিংবা কবরের ভয় দেখিয়ে কাউকে দমিয়ে রাখা যাবে না। লড়াই চলবে, সংস্কার হবে এবং বিচারও হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তিনি বিএনপির বিরোধিতা করতে রাজনীতিতে নামেননি। যাত্রাবাড়ীতে শহীদ পরিবারের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে এক শহীদের বাবার বক্তব্য শোনার পর একটি বিষয় নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। তাঁর দাবি, ওই শহীদ পরিবারের সদস্য অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট একটি দলের ‘শহীদ’ হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁকে ১০ লাখ টাকা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, পরে একটি রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় শহীদের তালিকা প্রকাশ করে। তাঁর ভাষ্য, যারা বাংলাদেশের শহীদদের দলীয় সম্পদে পরিণত করতে চায়, তারা শহীদদের আদর্শ কিংবা জুলাই সনদ—কোনোটিই ধারণ করে না।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে তাঁদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে আহতদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এস আলমের পেছনে ঘোরাঘুরি না করে আহত ভাইদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।’
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু, মূখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম, শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগম প্রমুখ।