বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘অসম ও অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। এ দাবিতে দেড় লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষর-সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত সমাবেশ শেষে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়।
সমাবেশে স্মারকলিপি পাঠ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ। তিনি বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও অন্তর্বর্তী সরকারের মতো একই দুঃসাহস ও বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে এই চুক্তির কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
স্মারকলিপি পাঠকালে মুক্তা বাড়ৈ বলেন, সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত যেকোনো চুক্তি সংসদের সামনে উপস্থাপন করতে হয়। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের ছয় মাসের বেশি সময় পার হলেও বিষয়টি নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি।
ছাত্র ফ্রন্টের এ কেন্দ্রীয় নেত্রী অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেন। পরে সেই শুল্কের চাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশকে অসম বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।
স্মারকলিপির বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
এই চুক্তি বাতিলের সুযোগ তৈরি হয়েছে জানিয়ে মুক্তা বাড়ৈ বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের একতরফা শুল্কনীতি অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বাতিল করে দেয়। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চুক্তি বাতিলের উদাহরণ হিসেবে মুক্তা বলেন, মালয়েশিয়া ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করেছে। একইভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ ধরনের কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রয়েছে।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনিক কুমার দাস, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুহাইল আহমেদ শুভসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে টিএসসি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।