একটি সেতুর নির্মাণকাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। এ সময়ে মাত্র তিন জোড়া পিসি গার্ডার খুঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর আর কোনো কাজ এগোয়নি। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নিউ ধলেশ্বরীর ওপর নির্মিতব্য সেতুর ক্ষেত্রে এ রকমই ঘটনা ঘটেছে।
সেতুটি নির্মিত হলে যমুনা সেতু ও ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করবে। ফলে টাঙ্গাইল শহরসহ পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সহজেই সেতুটি দিয়ে উত্তরাঞ্চলে যেতে পারবে। আর প্রতি ঈদে টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটও কমে যাবে। এ উদ্দেশ্য থেকে মূলত সরকার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু আজও কাজটি শেষ না হওয়ার মূল কারণ হলো তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্ব। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ভেঞ্চারে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। আর ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। এর মধ্যে একজন অপর দুই ঠিকাদারের স্বাক্ষর জাল করে আরেক ব্যক্তির কাছে কাজটি বিক্রি করে দেন। সেটা শেষ পর্যন্ত আদালতে গিয়ে গড়ায়। এর মধ্যে ওই ঠিকাদার ১০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যান। এই করতে করতে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে যায়। আবার এ বছরের ৯ মার্চ নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ দেওয়া হয়েছে নতুন জয়েন্ট ভেঞ্চার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তাদের আগামী ২২ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরুই হয়নি।
ঘটনার পরম্পরায় মনে হচ্ছে, সেতুটিতে শনির দশা পড়েছে! বাস্তবিক অবস্থায় সেটা হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও এলজিইডির ব্যর্থতা এখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। শনির দশা তো এখানে রূপক, কিন্তু সেতুটির কাজ কেন ছয় বছরেও শেষ হচ্ছে না, সেই দায় আসলে কার? ঠিকাদার নয়ছয় করতে পারেন, কিন্তু তাঁদের অপকর্মের ভুল কে ধরবে? অবশ্যই এলজিইডির কর্মকর্তারা এ দায় এড়াতে পারেন না।
এ দেশে এমনটাই হয়—সড়ক আছে কিন্তু সেতু নেই, সেতু আছে, কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়ক নেই, আবার নদীর মাঝখানে শুধু পিলার আছে, কিন্তু সেতুর কোনো অস্তিত্ব নেই! এ রকম ঘটনা যেন নিত্য ব্যাপার বাংলাদেশে।
প্রশ্ন হলো, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের তদারকি কে করবে? সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করে একজন ঠিকাদার কীভাবে সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের টাকা তুলে নিলেন? ছয় বছর ধরে এ রকম একটা অব্যবস্থা চলতে পারে? সরকার গ্রামীণ সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করে, করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। কিন্তু এসব প্রকল্পের কাজ তদারকি করার দায়িত্ব যাঁদের, সেই স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কী করেন? শুধু সঠিক তদারকির অভাবে অনেক সময় সরকারি বরাদ্দের অর্থ জনগণের কোনো উপকারে আসে না। এ ঘটনায় তা-ই হয়েছে।
এবার যেন কোনোভাবেই সেতুর কাজটি অসম্পূর্ণ না থাকে, সেটা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের জরুরি কর্তব্য।