হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

মাদ্রাসাশিক্ষক

সম্পাদকীয়

মাত্র ১১ বছরের একটি মেয়েশিশু এখন এক ভয়াবহ সময় পার করছে। নেত্রকোনার মদনে একজন মাদ্রাসাশিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন সে কয়েক মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিভিন্ন মাদ্রাসায় (ছেলেদের মাদ্রাসাসহ) যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার বহু ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু এবারের ঘটনাটির ভয়াবহতা আগের সব ঘটনাকে ছাপিয়ে গেছে। ছোট্ট এই শিশুটি তার শরীরে সাত মাসের অনাগত একটি শিশুকে বহন করছে। মা ও শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না, বলেছেন উদ্বিগ্ন চিকিৎসক।

মাদ্রাসায় ধর্ষণের ঘটনার বহু নজির রয়েছে। কোনো কোনো অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক বলার চেষ্টা করেছেন, এসব কাজ শয়তান তাঁদের দিয়ে করিয়ে নিয়েছে। অর্থাৎ নিজের পাপের দায় তাঁরা শয়তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের শিক্ষকেরা আসলে ধর্মকে ছোট করে চলেছেন। এ ধরনের কিছু কুলাঙ্গারের কারণে ধর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাইনি চিকিৎসক সায়মা আক্তার এই খবরটি প্রকাশ করার পর বিভিন্নভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। একদল বেনামি মানুষ তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। এ রকম অবস্থা চলতে থাকলে তাঁর পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে। যাঁরা হুমকি দিচ্ছেন, তাঁরা যে ধর্ষণকারীর পক্ষ নিয়েছেন, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হলো, কারা এরা? এদের খুঁজে বের করা কি খুব কঠিন? পুলিশ যদি আন্তরিক হয়, তাহলে এই অন্যায়কারীদের আইনের আওতায় আনতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা। পুলিশকে অভয় দেওয়া হলে ধর্মের নাম ভাঙিয়ে কিংবা মাদ্রাসার নাম ভাঙিয়ে এই অপরাধী এবং এই অপরাধীর সাঙ্গপাঙ্গরা পার পাবে না, অভিযুক্ত শিক্ষক ধরা পড়া তার প্রমাণ। চিকিৎসকের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

আর সেই ১১ বছরের শিশুটির কথা আর কী বলব! এ রকম বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়ার শারীর বিজ্ঞানীয় জটিলতার কথা শুনলেই বুক শুকিয়ে আসে। সায়মা আক্তার সেই বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথাও বলেছেন। এই শিশুটির এবং তার পেটে থাকা শিশুটির জীবন যে অমানুষ ছিন্নভিন্ন করে দিল, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি।

বড়ই আক্ষেপের বিষয়, আর্থিক সংগতি না থাকলে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করানো ছাড়া গতি থাকে না অনেকের। কিন্তু সেখানে শিশু কতটা নিরাপদ, সেটা সব সময় জানা হয় না। অনেক মাদ্রাসায়ই শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা নাজুক, তা নিয়ে সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর কাজ করা জরুরি। নজরদারি না থাকায় কোন কোন মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলে ও মেয়েরা একশ্রেণির ব্যক্তির লালসার শিকার হচ্ছে। এটি ধর্মীয় প্রশ্ন নয়, সামাজিক অব্যবস্থার প্রশ্ন। সেভাবেই বিষয়টিকে দেখা উচিত এবং তার প্রতিকার খোঁজা দরকার।

গোটা দেশের মানুষ এই অসহায় ১১ বছর বয়সী শিশুর পাশে দাঁড়াক। শাস্তি পাক ওর জীবনকে ধ্বংস করা নরপশুটি।

তিশা উধাও

২০০ বছর

ওষুধবিহীন কমিউনিটি ক্লিনিক

নাতিদের জন্য আমরা কী রেখে যাচ্ছি

একটা শুট!

মে দিবস

জাল সনদের শিক্ষক

‘দোসর’ লুট!

জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা

পেটে লাথি