হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

কনটেন্ট ক্রিয়েটর

সম্পাদকীয়

আজকের পত্রিকার একটি খবর থেকে জানা যায়, ৮ মে নাটোরের লালপুর উপজেলার গ্রিন ভ্যালি পার্কে রাজশাহীর কয়েকজন তথাকথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরের হাতে দুই বিদেশি পর্যটক হেনস্তার শিকার হন। হেনস্তাকারী হিসেবে যারা অভিযুক্ত, তাদের মধ্য থেকে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের ব্যাপারে আদালতই সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা শুধু এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর নামধারী মানুষেরা যেসব ভয়াবহ কাজ করে যাচ্ছে, তা নিয়েই কথা বলব।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার ব্যাপারটি একচেটিয়াভাবে বাংলাদেশের ‘অর্জন’—এমন নয়। পৃথিবীর নানা দেশেই ভালো-মন্দ কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। বিনা অনুমতিতেই ভিডিও করা, ভিডিওর মাধ্যমে কাউকে অপমান করা, প্র্যাঙ্ক করা, মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্তকে ধারণ করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার অনেক কিছুই রুচিহীনতার নামান্তর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ যেসব মাধ্যমে কনটেন্ট দিলে অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা হয়, সেসব জায়গাতেই এই রুচিহীন কাজগুলো বেশি হয়। এই ‘বিচক্ষণ’ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বুঝে গেছে, কোন ধরনের কনটেন্ট দিলে ‘ভিউ’ বাড়বে, অর্থ উপার্জন হবে। বস্তুনিষ্ঠ উপকারী কনটেন্টের কদর এখন নেই বললেই চলে। স্মার্টফোনে ইন্টারনেট নিতে পারলেই মানুষ এখন বাস্তব জগৎকে অগ্রাহ্য করে নেট দুনিয়ায় ঘুরতে পছন্দ করে। ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তক্কে তক্কে থাকে। কী করে সাধারণ মানুষকে তাদের কনটেন্টের প্রতি আকৃষ্ট করা যায়, তা বিশ্লেষণ করা তাদের জন্য সহজ। আর অ্যালগরিদমের ভয়াবহতা সেই ধরনের কনটেন্টকেই বারবার চোখের সামনে নিয়ে আসতে থাকে।

কনটেন্ট তৈরির বিষয়টি নিয়ে বড় সামাজিক প্রশ্নের জন্ম হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা ‘ভিউ’ বা ‘ভাইরাল’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে মানুষকে আর মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে না, সব মানুষই তখন তাদের চোখে ‘কনটেন্ট’ হয়ে যায়। ফলে ভদ্রতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্মান ইত্যাদির সীমা লঙ্ঘিত হয়।

নেট দুনিয়ায় কোন ধরনের কনটেন্টের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে, সেদিকে চোখ রাখলেই বোঝা যাবে, অর্থ উপার্জনের সহজ পথ কোনগুলো। এমন কোনো অযাচিত ঘটনা, যা মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়, মানুষের তর্ক-ঝগড়া, মানুষকে করা অপমান ইত্যাদি যত দেখানো যায়, তত বেশি ‘ভিউ’, ‘এনগেজমেন্ট’, ‘ফলোয়ার’ বাড়তে থাকে। আর তা বেড়ে গেলেই উপার্জনও বাড়ে। সুতরাং যেখানে অর্থ উপার্জনের পথ খোলা, সেখানে নৈতিকতাকে পায়ে মাড়িয়ে বড়লোক হওয়ার সুযোগ কে আর হাতছাড়া করবে?

প্রযুক্তির শনৈঃশনৈঃ উন্নতির ফলে এখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস কমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরাট করেছে সেই শূন্যস্থান। তাই এখন মিডিয়ার জায়গায় যে কেউ হাতে ফোন থাকলে, মাইক্রোফোন থাকলে লাইভস্ট্রিমিং শুরু করতে পারে। শত শত, হাজার হাজার, লাখ লাখ ‘ভিউয়ার’ সে পেয়ে যায়। কখনো তারা সাংবাদিক হিসেবেও নিজেদের পরিচয় দেয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কর্মকাণ্ড যদি সাধারণ মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, তবে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে সামনে বিপদ আছে।

দরপত্রে স্বজনপ্রীতি

আঙুল

লাগামহীন দ্রব্যমূল্য

হাওরের কান্না

মাদ্রাসাশিক্ষক

তিশা উধাও

২০০ বছর

ওষুধবিহীন কমিউনিটি ক্লিনিক

নাতিদের জন্য আমরা কী রেখে যাচ্ছি

একটা শুট!