প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সৌদি আরবের পর বাংলাদেশি কর্মীদের দ্বিতীয় শ্রমবাজার হচ্ছে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য সরকার কাজ করছে। এ বছরের ৮-১১ এপ্রিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং মন্ত্রী দেশটি সফর করেছেন। আশা করা যায় যে, অতিদ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের প্রশ্নের লিখিত জবাবে বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমান অর্থবছরের ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩১ মে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন কর্মীর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজার মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মী পাঠানোর জন্য দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিশেলস, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ হতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিদেশে নামমাত্র কোম্পানি খুলে ভুয়া চাহিদাপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। তিনি বলেছেন, এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও কঠোর নজরদারি ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, বিভিন্ন দেশে কাগজে-কলমে কোম্পানি খুলে বাংলাদেশ থেকে শত শত শ্রমিক নেওয়া হচ্ছে। সেখানে গিয়ে অনেকে কাজ পাচ্ছেন না এবং মানবেতর অবস্থায় পড়ছেন। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশিরা অথবা ওই দেশের মালিকপক্ষের সঙ্গে মিলে নামমাত্র কোম্পানি খুলে এখান থেকে লোক নিয়ে যাচ্ছে। দেখা যায়, ১০ জনের কাজের জায়গায় ১০০ জন নিয়ে যাচ্ছে।
হান্নান মাসউদ বলেন, ‘বিদেশ থেকে পাঠানো ডিমান্ড লেটার সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস সত্যায়ন করে পাঠায়। ফলে দূতাবাস পর্যায়ে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের যেটা একটু গ্যাপ আছে, আমি মনে করি, আমাদের ওখানকার যাঁরা দূতাবাস বিশেষ করে ওই দেশগুলোতে আছেন, তাঁদের আরেকটু কঠোর নজরদারি, মনিটরিং এবং যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ২৭টি দেশে বাংলাদেশের ৩০টি শ্রমকল্যাণ উইং রয়েছে। তবে জনবল ও আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা এই বাজেটে সরকারের কাছে বরাদ্দ চেয়েছি। আমাদের মন্ত্রণালয়ে লোকবল বাড়ানোর পাশাপাশি মাইগ্রেশন ডিপ্লোমেসিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান বিদেশগামী দরিদ্র কর্মীদের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে কি না, জানতে চান। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এটাকে পাঁচ লাখ টাকা করার চিন্তাভাবনা করছি।’ তবে বিনা সুদে ঋণ চালুর কোনো সরকারি স্কিম বর্তমানে নেই বলে জানান তিনি।