সংবিধান সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করলেও সংবিধান সংশোধনে জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটিতে থাকবে ইসলামী আন্দোলন। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য অলি উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন না।
অলি উল্লাহ আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, নির্বাচনী এলাকা বরগুনা থাকায় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। বিশেষ কমিটির পরের বৈঠকে থাকবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাত্র একটি আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। বরগুনা-১ আসন থেকে হাতপাখা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন অলি উল্লাহ। পরে তিনি সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে নির্বাচনের পর থেকে রাজপথে একাধিক কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। এর মধ্যে গত ১৩ জুলাই সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে রাখা হয় অলি উল্লাহকে। পরে তিনি একাধিক গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নাম দেওয়া হয়েছে, কমিটি থেকে নাম প্রত্যাহার করবেন। তবে প্রথম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না তিনি।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেন বিশেষ কমিটির সদস্য ও ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহ।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে অলি উল্লাহ বলেন, ‘এলাকায় এসেছিলাম, তাই বৈঠকে থাকতে পারি নাই।’
কমিটিতে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অলি উল্লাহ বলেন, ‘আপাতত থাকব।’
এর আগে অলি উল্লাহ দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করেই কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। আমরা যেহেতু সংবিধান সংস্কারের পক্ষে, কমিটিতে আমাদের দাবিদাওয়া পেশ করব। সেগুলো না মানা হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেব।’
সরকার সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলছে—এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য জানতে চাইলে অলি উল্লাহ বলেন, ‘সরকার তো বোঝাতে চায় সংস্কার ও সংশোধন এক। একটা বৈঠকে উপস্থিত হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যদি তারা সেইভাবে করে (সংশোধন), তাহলে আমি কমিটি থেকে ইস্তফা দেব।’
এদিকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, বিশেষ কমিটিতে অলি উল্লাহকে রাখা হলেও সেখানে থাকা বা পদত্যাগ করার বিষয়ে দল এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আছে এবং বক্তব্য দেব। আমাদের এমপিকে বিশেষ কমিটিতে রাখা হয়েছে, তিনি সেখানে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। উনাকে ওইভাবে বলা হয়েছে। কমিটিতে থেকে পদত্যাগ করার পরিবেশ হলে, তখন করবেন।’
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটিতে অংশ নেওয়া নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান জানতে চাইলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এটার (বিশেষ কমিটি) দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য আছে। কিন্তু তারপরও বৈঠকে আমাদের বক্তব্য, যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করব। সমন্বয় করা গেলে ভালো, না হলে প্রতিবাদ জানাব।’
দাবি মানা হলে সংবিধান সংস্কারের অবস্থান থেকে ইসলামী আন্দোলন সরে যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের কথা হলো, সংবিধানের যে পরিবর্তনগুলো প্রয়োজন, সেটা সংস্কার বা সংশোধন, যে নামেই হোক, আমাদের কথা থাকবে না। গণভোটে গৃহীত জুলাই সনদের আলোকে সংবিধানে পরিবর্তন এলে ইসলামী আন্দোলনের আপত্তি থাকবে না।’