তামান্না ভাটিয়া তাঁর উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর ত্বক দিয়ে ভক্তদের বরাবরই মুগ্ধ করেছেন। প্রায় ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী তাঁর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া বহু পুরোনো ত্বকের যত্নের রীতির ওপরই নির্ভর করে চলেছেন। আর ত্বকে ব্যবহার করার জন্য সেসব প্যাক তৈরি হয় তাঁর রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান দিয়েই। এই প্যাকগুলো ব্যবহারে মেকআপের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে ত্বকের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায় বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি ত্বকও থাকে তারুণ্যদীপ্ত।
‘ভোগ’ ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক কথোপকথনে অভিনেত্রী জানান, তাঁর ত্বকের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় মায়ের পরামর্শের ওপরই ভরসা রেখেছেন। কিশোরী বয়সে যখন তিনি অভিনয় জীবন শুরু করেন, তখন তাঁর মা তাঁকে প্রতিদিনের মেকআপ এবং চুলের স্টাইলিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বিভিন্ন প্যাক তৈরি করে দিতেন।
অভিনেত্রী উল্লেখ করেছেন, ত্বক হাইড্রেটেড ও ময়শ্চারাইজড রাখতে ফেসপ্যাকে মধু মেশাতে ভালোবাসেন তিনি। এ ছাড়া ত্বকের উপরিভাগের মরা কোষ ঝরাতে একধরনের প্যাক তিনি তৈরি করেন; যাতে থাকে ১ চা-চামচ চন্দনগুঁড়া, ১ চা-চামচ কফিগুঁড়া এবং ১ চা-চামচ কাঁচা মধু। এই উপকরণগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে চোখের অংশ এড়িয়ে বৃত্তাকার গতিতে পুরো মুখে আলতোভাবে ম্যাসাজ করেন। এরপর প্যাকটি প্রায় ১০ মিনিটের জন্য রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেন। তামান্না উল্লেখ করেছেন, এই স্ক্রাব ত্বক কোমল ও সতেজ করে তোলে।
এ ছাড়া ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক রাখতে একধরনের ময়শ্চারাইজিং ফেস মাস্ক ব্যবহার করেন তামান্না। এই মাস্ক ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে এক্সফোলিয়েশনের পরে এটি ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এটি করতে প্রয়োজনমতো গোলাপজল, বেসন, ঠান্ডা টক দই একসঙ্গে অল্প পানি দিয়ে মিশিয়ে মিহি পেস্ট তৈরি করেন তিনি। তারপর এটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে মাস্কটি শুকানো পর্যন্ত রেখে দেন। ১০ মিনিটের মতো এটি মুখে রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেন।
তামান্না বলেন, ‘এই মাস্ক ত্বক শীতল করে এবং লালচে ভাব কমায়। এ ছাড়া গভীর আর্দ্রতা জোগায়।’ ‘হ্যাপি ডেজ’ অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘যদি আপনার হাতে সময় কম থাকে, তবে এক্সফোলিয়েটিং মাস্ক ব্যবহারের পর শুধু গোলাপজল লাগালেও তা উপকারী ভূমিকা রাখে।’
এই সহজ ঘরোয়া উপকরণে তৈরি ফেস মাস্কগুলো প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের যত্নে সেরা ফল দিতে পারে। তাঁর ভাষ্য, কখনো কখনো সেরা সৌন্দর্যের রহস্য সত্যিই ঘর থেকে আসে!
সূত্র: পিংক ভিলা