সারা দিনের ব্যস্ততার মাঝেও চা পান করতে কী আর ভুল হবে আজ? হবে না। আয়োজনে যেহেতু অভিনবত্ব রাখতে চান, তাই চায়ের ক্ষেত্রেও সেটা রাখতে পারেন। অতিথিদের জন্য কিংবা নিছক নিজের জন্যও বানিয়ে নিন টার্কিশ চা।
বিশ্বে মাথাপিছু চা পানের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে তুরস্ক। এটি চায়ের একটি অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশও বটে। টার্কিশ চা মূলত ক্যামেলিয়া সিনেনসিস পাতা থেকে তৈরি কালো চা, যা তার গাঢ় রং ও স্বাদের জন্য জনপ্রিয়। একে বলা হয় তুরস্কের আতিথেয়তার প্রতীক। সাধারণত, খাবারের পর পান করা হয় এ চা। এর তীব্র স্বাদের ভারসাম্য আনতে এতে চিনি মেশানো হয়। এই বিশেষ ধরনের চায়ে দুধ মেশানো হয় না। ঐতিহ্যগতভাবে এই চা পরিবেশন করা হয় সরু কাচের গ্লাসে। তুরস্কে চা শুধু একটি পানীয় নয়। এর সঙ্গে তুর্কি সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
তুর্কি চা তৈরির পদ্ধতি ইংলিশ চা থেকে অনেকটাই আলাদা। এটি ডাবল টি পট ব্যবহার করে ভাপে দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি করা হয়। তুর্কি চা ছোট টিউলিপ আকৃতির গ্লাসে পরিবেশন করা হয়। কেবল স্বাদেই নয়, এর লালচে বাদামি রং দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়।
এই ঈদে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন কয়েক ধরনের টার্কিশ চা।
উপকরণ
খোসাসহ কাটা ২টি লাল আপেল, ২টি দারুচিনি, ৩ থেকে ৫ কাপ পানি, ১ থেকে ২ চা-চামচ লেবুর রস, ১ থেকে ৩ চা-চামচ মধু, ১ চা-চামচ লবঙ্গ।
প্রণালি
মধু ছাড়া অন্য সব উপকরণ একটি প্যানে নিয়ে মাঝারি আঁচে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফুটতে দিন। এবার চা ছেঁকে নিয়ে রস বের করার জন্য আপেলগুলোতে আলতো চাপ দিন। কাচের গ্লাসে সামান্য মধু মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
পরিবেশন
এই দারুচিনি-আপেল চা ছেঁকে বা না ছেঁকে দুভাবেই পরিবেশন করা যেতে পারে। না ছাঁকলে স্বাদ আরও তীব্র হবে। চাইলে মধু বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিতে পারেন।
উপকরণ
আধা কাপ রোজহিপ, পানি, ১ টেবিল চামচ মধু।
প্রণালি
একটি ঢাকনাযুক্ত প্যান বা কেটলিতে পানি নিন। এর মধ্যে রোজহিপগুলো দিয়ে ঢেকে দিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট বা সুন্দর রং ও স্বাদ না আসা পর্যন্ত ফুটিয়ে নিন। একটি কাপে সামান্য মধু দিয়ে পরিবেশন করুন। চাইলে বরফ দিয়ে বা ফ্রিজে ঠান্ডা করেও পান করতে পারেন।
সূত্র: গিভ রেসিপি, টুইনিংস, অন্যান্য।