আলমারিভর্তি জামাকাপড় থাকলেও প্রতিদিন সকালে ‘আজ কী পরব’—এ কথা ভেবেই অনেকের সময় পার হয়ে যায়। অনলাইন শপিং আর ফাস্ট ফ্যাশনের এই যুগে নতুন পোশাক কেনা এবং কয়েকবার পরার পর তা আলমারির কোণে ফেলে রাখা অথবা ফেলে দেওয়া সাধারণ এক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তবে এই অভ্যাসের ভিড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে, তা হলো, একটি পোশাক আসলে কতবার পরা উচিত? এটি খুব সাধারণ প্রশ্ন মনে হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারা ও পরিবেশের সুরক্ষা।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন পোশাক ছিল দীর্ঘমেয়াদি ফ্যাশন উপকরণ। মানুষ জামাকাপড় কিনত, যত্ন করে বারবার পরত, ছিঁড়ে গেলে সেলাই করত এবং বয়সভেদে কয়েকজন মিলে তা ব্যবহার করা হতো।
কিন্তু এখনকার দ্রুত পরিবর্তনশীল ফাস্ট ফ্যাশন এই সংস্কৃতিকে একপ্রকার ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বে একটি পোশাক ফেলে দেওয়ার আগে গড়ে মাত্র ৭ থেকে ১০ বার পরা হয়। পোশাক তৈরিতে যে প্রচুর পানি ও বিদ্যুৎ খরচ করা হয়, তা সবার নিশ্চয় জানা। এসব হিসাব করে অল্প কয়েকবার ব্যবহার করার পর জামাকাপড় ফেলে দেওয়া মানে তা সম্পদের অপচয়ও বটে।
একটি পোশাক কতবার ব্যবহার করা যাবে, সেটি মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর
করে থাকে—
টেকসই ফ্যাশনের অন্যতম বড় একটি ধারণা হলো ৩০ বার ব্যবহার। কোনো নতুন পোশাক কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি এই পোশাক অন্তত ৩০ বার পরবেন? যদি আপনার উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবেই সেটি কিনুন। কোনো পোশাক যত বেশি পরা হবে, তার উৎপাদন খরচ এবং পরিবেশগত প্রভাব ততটাই যৌক্তিক হয়ে উঠবে।
একটি পোশাক ঠিক কতবার পরা উচিত, সেটি নির্দিষ্ট নয়। তবে লক্ষ্য হওয়া উচিত আলমারিতে থাকা প্রতিটি পোশাকের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। বিশ্বখ্যাত তারকা থেকে শুরু করে ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সাররা এখন গর্বের সঙ্গে একই পোশাক একাধিকবার পরিধান করছেন। একই পোশাক বারবার পরা কিন্তু কৃপণতা নয়, বরং আপনার আত্মবিশ্বাস এবং পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সূত্র: ফাইবার টু ফ্যাশন ও অন্যান্য