হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

হাড় শক্ত রাখতে ব্যায়ামের পর পান করুন এক গ্লাস দুধ

ফিচার ডেস্ক

গরুর দুধের প্রোটিন শরীরকে ব্যায়ামের পর দ্রুত পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং হাড়ের সুরক্ষায় সয়া মিল্কের চেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। ছবি: পেক্সেলস

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশির কার্যক্ষমতা ও হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া বিশ্বব্যাপী এক বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক মানুষদের মধ্যে ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। হাড় দুর্বল হয়ে গেলে সামান্য পড়ে যাওয়ার ঘটনাও বড় ধরনের ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙার কারণ হতে পারে। হাড়ের গঠন ও শক্তির জন্য ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। কিন্তু দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে কেবল দুধ রাখা নাকি ব্যায়ামের পর তা পান করা, কোনটি বেশি কার্যকরী? এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা চমৎকার এক বার্তা দেয়।

দুধ ও ক্যালসিয়াম হাড়ের জন্য জরুরি

অস্টিওপোরোসিস এমন এক নীরব ব্যাধি, যাতে হাড় ভেতর থেকে ছিদ্রযুক্ত ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। মানবদেহে রক্তে ক্যালসিয়ামের একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। খাদ্যের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না পেলে শরীর সরাসরি হাড় থেকে তা টেনে নেয়, যা হাড়কে দুর্বল করে দেয়। দুধ কেবল ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস নয়, এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ফসফরাস এবং ভিটামিন কে২। অনেকের ধারণা, প্রোটিন গ্রহণ রক্তে অ্যাসিড বাড়ায় যা হাড়ের জন্য ক্ষতিকর। তবে বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী এই তত্ত্বটি ভুল। উল্টা দুধের উচ্চমাত্রার প্রোটিন ক্যালসিয়াম শোষণে সরাসরি সাহায্য করে এবং হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে চমৎকার ভূমিকা রাখে। হাড়ের মোট আয়তনের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মোট ভরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গঠিত হয় প্রোটিন দিয়ে। দুধ প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ হাড়ের ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সেইসব নারীদের ক্ষেত্রে, যাঁদের খাবারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে। হাড়কে ভেতর থেকে মজবুত রাখতে, বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয় রুখতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ রাখা অত্যন্ত কার্যকরী একটি অভ্যাস।

গবেষণায় যা জানা যায়

সম্প্রতি চীন এবং যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক গবেষণা দল বয়স্ক ব্যক্তিদের হাড়ের ঘনত্ব ও পেশীর স্বাস্থ্য রক্ষায় একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব নিউট্রিশন, হেলথ অ্যান্ড এজিং’-এ প্রকাশিত হয়েছে। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৮২ জন সম্পূর্ণ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সকল অংশগ্রহণকারী ৮ সপ্তাহব্যাপী সপ্তাহে ৩ দিন ভার উত্তোলন ও ভারসাম্য বজায় রাখার ব্যায়াম করেন। চারটির মধ্যে একটি দলকে ব্যায়ামের ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে ২৪০ মিলিগ্রাম লো-ফ্যাট গরুর দুধ এবং অন্য একটি দলকে সয়া মিল্ক দেওয়া হয়। ৮ সপ্তাহ শেষে দেখা যায়, যারা কেবল ব্যায়াম করেছেন তাদের হাঁটার গতি ও হাতের গ্রিপ উন্নত হয়েছে। তবে যারা ব্যায়ামের পরপরই ১ গ্লাস গরুর দুধ পান করেছেন এবং সাপ্তাহিক পুষ্টি শিক্ষা ক্লাসে অংশ নিয়েছেন, তাদের পেশির শক্তি, হাতের গ্রিপ, চেয়ার থেকে ওঠাবসার গতি এবং হাঁটার গতি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকদের মতে, গরুর দুধের প্রোটিন শরীরকে ব্যায়ামের পর দ্রুত পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং হাড়কে সুরক্ষায় সয়া মিল্কের চেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

যেভাবে নেবেন হাড়ের যত্ন

কেবল পুষ্টি বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করলেই শরীর সুস্থ থাকে না। খাদ্যাভ্যাসের বাস্তব প্রয়োগই আসল। শিশুদের হাড়ের গঠন, প্রাপ্তবয়স্কদের হাড়ের ক্ষয়রোধ এবং বয়স্কদের ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি কমাতে দুধ অনন্য। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ব্যবহারে কিছু ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে দুধ, সবুজ শাকসবজি ও মাছের মতো প্রাকৃতিক খাদ্য থেকেই প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সংগ্রহ করা সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

দুধ কেবল ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস নয়, এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ফসফরাস এবং ভিটামিন কে২। ছবি: পেক্সেলস

দুধ সবার জন্য নয়

দুধকে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এটি সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশ্বজুড়ে অনেকের জন্যই দুধ হজম করা কঠিন, আবার অনেকে ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণে দুধ পান করা থেকে বিরত থাকেন। দুধ ও দুধজাতীয় খাবারে ‘ল্যাকটোজ’ নামক এক ধরণের শর্করা থাকে। বিশ্বের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ এই ল্যাকটোজ সঠিকভাবে হজম করতে পারেন না, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স’ বলা হয়। এছাড়া বিভিন্ন খাদ্য বিষয়ক বিধিনিষেধ, শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি কিংবা নৈতিক ও পরিবেশগত কারণেও অনেকে দুগ্ধজাত পণ্য এড়িয়ে চলেন।

সূত্র: হেলথ লাইন

খরচ বাঁচাতে বাড়িতেই করুন হেয়ার স্পা, সুফল পেতে যে কাজগুলো করা থেকে বিরত থাকতে হবে

জেনে নিন বর্ষাকালে কোন ধরনের সাবান ব্যবহার করা ভালো

সঙ্গীর এডিএইচডি রয়েছে কি না যেভাবে বুঝবেন ও যা করবেন

বরফ না গলিয়ে যে ৫ খাবার রাঁধবেন না

চোখের নিচের কালো দাগ ও ফোলা ভাব দূর করার ঘরোয়া উপায়

সাঁঝবেলায় রাতের খাবার: টিকটকের ট্রেন্ড নাকি ঘুমের সমাধান

বর্ষায় ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ রাখবেন যেভাবে

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে জাপানিজ ‘ওগাকুজু-বুরো’ বা এনজাইম বাথ, বিষয়টি আসলে কী

লিমেরেন্স: সুস্থ নাকি অসুস্থ ভালোবাসা, জেনে নিন

কর্টিসল কি আসলেই ডিটক্স করা যায়? জেনে নিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে