নভেম্বর শুরু হতেই বাংলার প্রকৃতি রূপ বদলাতে শুরু করে। শেষ রাতের দিকে গায়ে হালকা কাঁথা বা চাদর জড়ানোর মায়াবী আমেজ। এদিকে ভোরে জানালার কাচে জমে থাকা হালকা কুয়াশার প্রলেপ। সবই জানান দেয়, শীতের আগমনী বার্তা এসে গেছে। তবে এই সময়ে সবচেয়ে কঠিন লড়াইটা শুরু হয় বিছানার সঙ্গে। ভোরে ঘড়ির অ্যালার্ম বাজলে কম্বলের মিষ্টি ওম ছেড়ে উঠতে মন যেন সায় দিতে চায় না। বারবার স্নুজ বাটন চেপে আরেকটু গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকার প্রলোভন সামলানো বেশ দায়। তবে অভ্যাসে সামান্য বদল আনলেই কিন্তু এই হিমেল সকালগুলোকে একদম নতুন করে সাজানো যায়। শীতের শুরুতে অলসতাকে ছুটি দিয়ে দিনটিকে উদ্দীপ্ত আর প্রাণবন্ত করতে কিছু সহজ ও উষ্ণ অভ্যাস আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এসব অভ্যাস আপনার শীতকে করে তুলবে প্রাণবন্ত আর উপভোগ্য।
হুট করে ঠান্ডা ঘরের মেঝেতে পা নামিয়ে দিলে শরীর একটু থমকে যেতেই পারে। তাই তাড়াহুড়ো না করে বিছানাতেই একটু আড়মোড়া ভেঙে নিন। কম্বলের ভেতরে বসেই চাইল্ড পোজ বা হালকা কিছু স্ট্রেচিং করে নিলে পেশিগুলো সতেজ হয়ে ওঠে। পাশেই রাখা থাকুক এক জোড়া নরম সুতি বা উলের সোয়েটার আর আরামদায়ক স্লিপার। যেন বিছানা ছাড়ার পর ঠান্ডার ধাক্কা না লাগে।
সকালে উঠে আলসেমি করে ফোনের স্ক্রিনে চোখ না রেখে বারান্দা বা জানালার পর্দাটা একটু সরিয়ে দিন। শেষ হেমন্তের বা শীতের প্রাথমিক ভোরের মিষ্টি রোদ ঘরে ঢুকতে দিন। আর যদি সুযোগ থাকে, ঘরের এক কোণে কয়েক ফোঁটা লেমন বা বার্গামট এসেনশিয়াল অয়েল ছড়িয়ে দিতে পারেন; ঘরজুড়ে এক সুন্দর সুবাস ছড়াবে, যা ঘরের শুষ্ক ভাব দূর করে মনকে মুহূর্তেই চাঙা করে দেবে।
শীতের সকালে কাপ থেকে ভেসে আসা ধোঁয়ার গন্ধটা যেন একটুকরো স্বর্গ! অনেকে ভোরে মেডিটেশন, ইয়োগা বা হালকা হাঁটাহাঁটি শেষ করে কফির কাপে চুমুক দেওয়াকে নিজের জন্য একটা সুন্দর উপহার হিসেবে গণ্য করেন। আবার যদি পছন্দ হয়, ধোঁয়া ওঠা আদা-লেবু বা হলুদের লাল চা, তবে তা-ও শরীর চাঙা রাখার পাশাপাশি শীতের শুরুর সর্দি-কাশি থেকে অনাক্রম্যতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে।
আমাদের দেশে নভেম্বর-ডিসেম্বরের শুকনো হাওয়া ত্বকে প্রথম টান ধরায়। তাই সকালের রুটিনে ময়শ্চারাইজার ও লিপবাম ব্যবহার করাটা আবশ্যক। ঘরের বাইরে বের না হলেও সকালে মুখ ধুয়ে একটু ময়শ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন মেখে নেওয়া জরুরি। ঠোঁটের সুরক্ষায় পকেটে সব সময় একটা পেট্রোলিয়াম জেলি বা পছন্দের লিপবাম রাখা ভালো।
শীতকালে আমাদের শরীরে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। সকালের নাশতায় আগের রাতে ভিজিয়ে রাখা ওটস, তার সঙ্গে একটু তাজা ফল বা আমাদের দেশি গরম ভাপা পিঠা, ডিম-পাউরুটি যা-ই থাক না কেন, তা যেন পুষ্টিকর হয়। পাশাপাশি এই সময়ে সূর্যের আলো কম পাওয়ার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি, সি এবং বি-কমপ্লেক্সের ঘাটতি মেটাতে পুষ্টিকর শাকসবজি ও ফলমূল বেশি বেশি খাওয়া উচিত।
সকালের তাড়াহুড়ো এড়াতে আগের রাতেই নিজের ও বাচ্চাদের জামাকাপড়, জ্যাকেট বা শাল গুছিয়ে রাখুন। শীতের সকালে স্নিকার্স, মোজা বা সোয়েটার খুঁজে না পাওয়ার দুশ্চিন্তা পুরো সকালটাই মাটি করে দেয়। রাতে ঘণ্টাখানেক আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন বন্ধ করে একটু জলদি ঘুমাতে যাওয়াই হলো একটা সতেজ সকালের আসল রহস্য।
শীতের সকাল মানেই কিন্তু ভয় বা অলসতা নয়। এই সময়টাতে একটু নিজের যত্ন নেওয়া, পছন্দের গান ছেড়ে দিয়ে ধোঁয়া ওঠা কাপে চুমুক দেওয়া আর কুয়াশার আড়াল থেকে সূর্য ওঠা দেখার পরম বিলাসিতা। সঠিক অভ্যাসেই এই ঠান্ডা দিনগুলোর প্রতিটি সকাল হতে পারে ভীষণ প্রাণবন্ত।
সূত্র: হেলথ লাইন, মিডিয়াম