হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

কেরাটোসিস পিলারিস: সমাধান হাতের নাগালেই

শোভন সাহা 

মডেল: মার্শিয়া মেকআপ: শোভন সাহা। ছবি: হাসান রাজা

অনেকের হাতের পেছনে কনুইয়ের ওপরে, ঊরুতে, পিঠে অথবা গালে ছোট ছোট, খসখসে ফুসকুড়ি দেখা যায়। ত্বক দেখতে অনেকটা পালক টেনে তোলা মুরগির চামড়ার মতো মনে হয়। অনেকটা চেনা মনে হলেও এই নাম অনেকের অজানা। বিশেষজ্ঞরা ত্বকের এই অবস্থাকে ‘কেরাটোসিস পিলারিস’ বলেন। এটি কোনো ক্ষতিকর মারাত্মক রোগ কিংবা ছোঁয়াচে নয়। তবে নির্দ্বিধায় এটি ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে। কেরাটোসিস পিলারিস আবার দুই ধরনের হয়ে থাকে। কারও কারও ত্বকে শুধু শক্ত দানা দানা দেখা দেয়। তখন একে চিকেন স্কিন বলে। আবার এই দানাগুলোর ভেতর হোয়াইট হেডস জমা হওয়ার পর খুঁটলে শক্ত চালের মতো বের হয়, তখন এটিকে বলে স্ট্রবেরি স্কিন।

কেরাটোসিস পিলারিস কেন হয়

আমাদের ত্বকে ‘কেরাটিন’ নামের একটি প্রোটিন থাকে, যা ত্বককে বাইরের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কিন্তু কোনো কারণে শরীরে অতিরিক্ত কেরাটিন তৈরি হলে তা রোমকূপের গোড়ায় জমা হয়ে শক্ত হয়ে যায়। ফলে রোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে ছোট ছোট দানার সৃষ্টি হয়। এটি মূলত একটি জিনগত সমস্যা। পরিবারে কারও থাকলে এটি অন্য সদস্যদের হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। শীতকালে কিংবা শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ডিহাইড্রেট হয়ে গেলে কিংবা অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া যাদের অ্যালার্জি, অ্যাজমা বা একজিমা আছে, তাদের ত্বকে বেশি দেখা যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এটি দেখা দিতে পারে।

যা করা যেতে পারে

কেরাটোসিস পিলারিস পুরোপুরি নির্মূল করা খুব কঠিন। তবে সঠিক পরিচর্যা এবং ক্লিনজিংয়ের মাধ্যমে এটি কমিয়ে আনা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ত্বকের এই সমস্যা যদি দিন দিন বাড়তে থাকে কিংবা ছড়াতে থাকে, তাহলে ত্বক বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে নিতে হবে। এ ছাড়া সাধারণভাবে যে কাজগুলো করা যেতে পারে—

নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন

কেরাটোসিস পিলারিস ঊরুতে, পিঠে, হাতের পেছনে আর নিতম্বে হয়। ফলে অনেকে সময় নিয়ে এসব অংশ রোজ পরিষ্কার করেন না। যে কারণে দিনের পর দিন দানাগুলো ত্বকে রয়ে যায়। প্রতিদিন এক্সফোলিয়েশনের মাধ্য়মে ত্বক পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতিদিন গোসলের সময় লুপা বা স্ক্রাবারে ময়শ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত সাবান বা শাওয়ার জেল দিয়ে রগড়ে পরিষ্কার করলে ধীরে ধীরে কমে যাবে। ডিপ ক্লিনজিং উপাদান রয়েছে এমন বডিওয়াশ বা ত্বক শুষ্ক করে তোলে—এমন ক্লিনজার ব্যবহার করলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ত্বক ময়শ্চারাইজড রাখা

দিনে দু-তিনবার ভারী ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া গোসলের ঠিক পরপরই ত্বক হালকা ভেজা থাকা অবস্থায় ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। তবে বাজারে এমন কিছু ময়শ্চারাইজার রয়েছে, যেগুলোতে ইউরিয়া, ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং হায়ালুরনিক অ্যাসিড রয়েছে। এসব ব্যবহার করলে ত্বক অনেকটাই সেরে উঠতে পারে।

ছবি: পেক্সেলস

কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন

অনেকে সারা বছর ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করেন। তবে গোসলের পানি যেন অতিরিক্ত গরম না হয়। এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায় এবং কেরাটোসিস পিলারিসের সমস্যা বাড়ে।

সঠিক পোশাক নির্বাচন

আক্রান্ত স্থানে যেন ঘর্ষণ না লাগে, সে কারণে অতিরিক্ত টাইট অথবা খসখসে পোশাক পরা থেকে বিরত থাকা ভালো। চেষ্টা করতে হবে সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরার।

সঠিক খাদ্যাভ্যাসে নজর দেওয়া চাই

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র ও সুস্থ রাখে। কেরাটোসিস পিলারিস যেহেতু ত্বকে খসখসে ভাব সৃষ্টি করে, তাই ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার; যেমন সামুদ্রিক মাছ, তিসির বীজ, চিয়া সিড এবং আখরোট খেলে ত্বকে মসৃণ ভাব ফিরে আসবে। এ ছাড়া খাদ্যতালিকায় মিষ্টি আলু, গাজর, পালংশাক, পাকা পেঁপে, ব্রকলি এবং ডিমের কুসুম রাখলে উপকার পাবেন। এগুলো ‘ভিটামিন এ’ যুক্ত খাবার, যা ত্বকের কোষ গঠনে বিশেষে সহায়তা করে এবং রোমকূপে কেরাটিন জমতে দেয় না। ত্বক যেন ডিহাইড্রেটেড বা শুষ্ক না হয়ে যায়, সে কারণে ভেতর থেকে আর্দ্রতা দরকার। প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। ডাবের পানি কিংবা চিনি ছাড়া ফলের রসও পান করা যেতে পারে। যদি চুলকানি থাকে, তাহলে সেখান থেকে র‍্যাশের সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যালার্জি রয়েছে, এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

পরামর্শ দিয়েছেন: শোভন সাহা, কসমেটোলজিস্ট ও স্বত্বাধিকারী, শোভন মেকওভার

সপ্তাহে এক দিন মাথার ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি

চামড়ার ব্যাগ ভিজে গেলে যা করবেন

কোমল ত্বকের জন্য যেসব খাবার খেতে পারেন

বাড়িতেই তৈরি করুন গ্লুটাথিয়নসমৃদ্ধ ফেসপ্যাক

বেগুন সবজি নাকি ফল? জেনে নিন, বেগুন খেলে কেন গলা চুলকায়

অনলাইন আসক্তি থেকে অফলাইনে অশান্তি, জানুন স্ক্রিন টাইম কমানোর ৫ উপায়

আপনার বিড়ালকে চমকে দিতে যেভাবে দিনটি উদ্‌যাপন করতে পারেন

পড়ার টেবিলের অস্থিরতা, দোষ কি শুধু শিশুর

সকালের ১০ অভ্যাসে ঝরাবে মেদ

মস্তিষ্কে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বেশি জায়গা নেয় কেন