হাঁটার ধরনেও বোঝা যায় ব্যক্তিত্বের ধরন, এমনকি মনের অবস্থা। দ্রুত হাঁটার সময় হাত দোলানো দেখে দৃঢ় সংকল্পের আভাস পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, মাথা নিচু করে ধীরগতিতে হাঁটাকে অনাগ্রহ কিংবা লক্ষ্যহীনতার লক্ষণ বলে মনে হতে পারে। অনেকে দুই হাত পেছনে রেখে, এক হাত দিয়ে অন্য হাত শক্ত করে ধরে হাঁটেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে হাঁটার ভঙ্গি একজন মানুষের মানসিকতা ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে নানা ইঙ্গিত দিতে পারে। তাঁদের ধারণা, হাঁটার সময় হাত পেছনে রাখলে দৃষ্টিসীমায় থাকা কিছু বিভ্রান্তিকর বিষয় থেকে মনোযোগ সরানো সহজ হয়। এতে জটিল চিন্তা, কঠিন আবেগ কিংবা কোনো সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংক্ষেপে, হাত পেছনে রেখে হাঁটাকে গভীর চিন্তায় মগ্ন থাকার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়।
তবে বিষয়টি শুধু গভীর চিন্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, দুই হাত পেছনে রেখে হাঁটা আত্মবিশ্বাসেরও প্রকাশ হতে পারে—তবে তা অন্যকে ভয় দেখানোর মতো নয়। হাত শরীরের সামনে না রেখে পেছনে রাখলে বুক ও পেটের সামনের অংশ খোলা থাকে। সাধারণত আত্মরক্ষামূলক ভঙ্গিতে মানুষ হাত শরীরের সামনে রাখে। বিপরীতে, হাত পেছনে রেখে হাঁটার ভঙ্গি দেখে মনে হতে পারে, ব্যক্তি নিজের চিন্তায় মগ্ন থাকলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যাবে এবং তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। এর বিপরীতে, শরীরের সামনে হাত রেখে হাঁটাকে কখনো কখনো নিজেকে গুটিয়ে রাখা বা অন্যের সঙ্গে কথা বলার অনাগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
তবে হাত পেছনে রেখে হাঁটার ভঙ্গি যেমন সহজে কাছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে হতে পারে, তেমনি এতে কর্তৃত্বের প্রকাশও থাকতে পারে। বুক খোলা রেখে সোজা হয়ে হাঁটার মাধ্যমে একজন মানুষকে শান্ত ও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তি বলে মনে হতে পারে। যেন তিনি সম্ভাব্য কোনো হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। এ কারণেই বিশ্বনেতা, সামরিক বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক এবং এ ধরনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অনেককে এমন ভঙ্গিতে হাঁটতে দেখা যায়। এতে একই সঙ্গে কর্তৃত্বপূর্ণ ও সহজে কাছে যাওয়া যায়—এমন ভাবমূর্তি তৈরি হতে পারে। হাত পেছনে রাখায় আত্মরক্ষামূলক ভঙ্গি কম প্রকাশ পায়, আবার সোজা হয়ে হাঁটার কারণে কর্তৃত্বের ভাব ফুটে ওঠে।
এই ভঙ্গির সঙ্গে মানসিকতার সম্ভাব্য সম্পর্কের পাশাপাশি কিছু শারীরিক সুবিধার কথাও বলা হয়। হাত পেছনে রেখে হাঁটলে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি প্রকাশের পাশাপাশি শরীরের অঙ্গবিন্যাস বা পোস্টার ঠিক রাখতেও সহায়তা করতে পারে। এভাবে হাত রাখলে স্বাভাবিকভাবেই কাঁধ পেছনের দিকে যায় এবং বুক প্রসারিত হয়। এতে মেরুদণ্ড সোজা রাখা ও তার স্বাভাবিক সারিবদ্ধতা বজায় রাখা সহজ হতে পারে। অবশ্য একবার এভাবে হাঁটলেই শরীরের ভঙ্গি ঠিক হয়ে যাবে, এমন নয়। তবে নিয়মিত এভাবে হাঁটার অভ্যাস সঠিক অঙ্গবিন্যাসকে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত করতে সহায়তা করতে পারে।
তাই দৈনন্দিন কাজে যাওয়া-আসার সময় যদি নানা দুশ্চিন্তায় মাথা ভার হয়ে থাকে, তাহলে একবার দুই হাত পেছনে রেখে হাঁটার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এই ভঙ্গি মনকে কিছুটা স্থির করতে এবং দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান খোঁজার সময় শান্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে এতে সবার ক্ষেত্রে একই ফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কিছু বিষয় শুধু ইচ্ছা করলেই বাস্তবে ঘটানো যায় না। তবু এই ভঙ্গিতে অন্তত আপনাকে আত্মবিশ্বাসী ও গুছিয়ে চলা মানুষ বলে মনে হতে পারে—আর শরীরের অঙ্গবিন্যাসও কিছুটা ভালো থাকতে পারে!