হাই-ডেফিনেশন স্ক্রিন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্লোজআপ ছবির যুগে মেকআপের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে। এখনকার মেকআপ খুঁত ঢাকার পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্যও বজায় রাখে। এ কারণেই ক্যামেরার সামনে নিখুঁত লুক পেতে করুন এইচডি মেকআপ। ক্যামেরার সামনে বা বাস্তবে—সবখানেই একটি মসৃণ, হালকা ও ফিল্টারহীন নিখুঁত লুক এনে দেয় এই এ ধরনের মেকআপ। ঈদের দিন নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে এই মেকআপ করার কথা যদি ভেবে থাকেন, তাহলে লেখাটা আপনার জন্য। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
সাধারণ মেকআপ যেখানে কড়া আলোতে কিছুটা ভারী দেখায় বা ত্বকের সূক্ষ্ম রেখায় বসে যায়, এইচডি মেকআপ সেখানে একেবারেই ভিন্ন। এর অতি সূক্ষ্ম কণাগুলো ত্বকের ওপর আলোর প্রতিফলন এমনভাবে ছড়িয়ে দেয়, যা ত্বকের সব দাগ বা খুঁতকে একেবারে অস্পষ্ট করে দেয়। এটি ত্বকের ওপর খুবই পাতলা একটি স্তর হিসেবে বসে যায়, ফলে ত্বক দেখতে স্বাভাবিক দেখায়। এটি মূলত স্কিন কেয়ার এবং মেকআপের এক চমৎকার মেলবন্ধন, যা আপনার আসল ত্বক ঢেকে না রেখে তাকে সুন্দর করে তোলে।
আলোর প্রতিফলন
এর লাইট-ডিফিউজিং ফর্মুলা ত্বকের রোমকূপ ও সূক্ষ্ম বলিরেখা ঢেকে একটি সফট-ফোকাস ইফেক্ট দেয়।
হালকা টেক্সচার
একাধিক স্তর বা লেয়ার ব্যবহার করলেও মুখ কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভারী মনে হয় না।
ক্যামেরা-রেডি ফিনিশ
উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরার সামনে তো বটেই, সরাসরি সামনাসামনি দেখলেও এই মেকআপ দারুণ মানানসই লাগে।
ত্বক প্রস্তুত করা
মেকআপের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ত্বক প্রস্তুত করা। একটি ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ভালো করে স্ক্রাবিং করে নিতে হবে, যাতে মরা চামড়া দূর হয়। এরপর হাইড্রেটিং সেরাম এবং একটি লাইট ময়শ্চরাইজার ব্যবহার করুন। মেকআপ লাগানোর ঠিক আগে একটি ব্লারিং প্রাইমার ব্যবহার করুন, যাতে ত্বকের রোমকূপগুলো ঢেকে গিয়ে একটি মসৃণ ভিত্তি তৈরি হয়।
ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লিকেশন
আপনার ত্বকের রঙের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায় এমন একটি এইচডি ফাউন্ডেশন বেছে নিন। একটি ভেজা বিউটি ব্লেন্ডার দিয়ে ড্যাব করে আলতো করে মুখে বসিয়ে নিন। একেবারে বেশি না নিয়ে পাতলা স্তরে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।
কনসিল ও কারেক্ট
ত্বকের নিচের কালো দাগ ও ব্রণের দাগ দূর করতে একটি হালকা কনসিলার ব্যবহার করুন। পুরো মুখে কনসিলার না মেখে শুধু নির্দিষ্ট দাগের ওপর আলতো করে ব্রাশ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।
মুখের ডাইমেনশন ও হাইলাইট
মুখের সঠিক আকৃতি ফুটিয়ে তুলতে হালকা কনট্যুরিং এবং হাইলাইটিং জরুরি। এইচডি মেকআপের ক্ষেত্রে ভারী পাউডারের চেয়ে ক্রিম বেসড কনট্যুর স্টিক ব্যবহার করা ভালো। এটি ত্বকের টেক্সচারের সঙ্গে সহজে মিশে যায়।
মেকআপ সেট করা
ভারী পাউডার দিয়ে মেকআপ খুব বেশি ম্যাট না করে একটি ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার ব্যবহার করুন। কপাল ও নাকের মতো মুখমণ্ডলের যেসব জায়গায় বেশি তেলতেলে হয়, শুধু সেসব জায়গায় হালকা করে পাউডার দিন। সবশেষে একটি সেটিং স্প্রে দিয়ে পুরো লুকটি লক করে নিন।
বয়সের ছাপযুক্ত ত্বক: এই ত্বকে হাইড্রেশন জরুরি। এমন ফাউন্ডেশন বেছে নিন, যা বলিরেখায় জমে যাবে না।
তৈলাক্ত ত্বক: তেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অয়েল-ফ্রি প্রোডাক্ট এবং একটি ভালো ম্যাটিফাইং প্রাইমার ব্যবহার করুন।
ব্রণপ্রবণ ত্বক: এইচডি মেকআপের ফর্মুলাগুলো সাধারণত রোমকূপ বন্ধ করে না, তাই সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি বেশ নিরাপদ।
এইচডি মেকআপ শুধু একটি সাময়িক ট্রেন্ড নয়, এটি রূপচর্চার এমন একটি আধুনিক কৌশল, যা আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। সঠিক নিয়ম আর ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে কোনো কৃত্রিম ফিল্টার ছাড়াই আপনি হয়ে উঠতে পারেন যেকোনো আয়োজনের মূল আকর্ষণ।
সূত্র: বি বিউটিফুল ও অন্যান্য