কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস অনেকেরই আছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী কিংবা উদ্যোক্তা—গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যায় নানা পেশার মানুষের মধ্যেই। এর ফলে বাড়ে মানসিক চাপ, কমে উৎপাদনশীলতা। তবে ছোট একটি অভ্যাস বদলেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। এমনই একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি হলো ‘পোমোডোরো টেকনিক’।
অনেক সময় কাজের পরিমাণ বা জটিলতা দেখে আমরা শুরু করতেই ভয় পাই। ফলে কাজটি দিনের পর দিন অসমাপ্ত থেকে যায়। পোমোডোরো টেকনিকের মূল শক্তি এখানেই। নিজেকে শুধু ২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিন। পুরো কাজ শেষ করার কথা না ভেবে কেবল শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। দেখা যাবে, একবার শুরু করতে পারলে কাজ এগিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে।
সময় যে কত দ্রুত চলে যায়, ব্যস্ততার মধ্যে তা অনেক সময় টের পাওয়া যায় না। একটি সাধারণ টাইমার সময়কে দৃশ্যমান করে তোলে। পোমোডোরো পদ্ধতিতে সাধারণত ২৫ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিট বিরতির চক্র অনুসরণ করা হয়। এই কাঠামো মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে, পাশাপাশি কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও বাড়ায়।
অনেকে মনে করেন, কাজ করার জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণা বা মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। বাস্তবে এ অপেক্ষা অনেক সময় কাজ পিছিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পোমোডোরো টেকনিক শেখায়, মুড বা অনুপ্রেরণার জন্য অপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে। এতে কাজের সঙ্গে আবেগের নির্ভরতা কমে এবং ধারাবাহিকতা তৈরি হয়।
দিনের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কয়েক মিনিটের ফাঁকা সময়কে আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দিই না। অথচ এই সময়কে কাজে লাগিয়ে অনেক ছোট কাজ শেষ করা সম্ভব। একটি ই-মেইল লেখা বা উত্তর দেওয়া, প্রয়োজনীয় ফোনকল করা, বার্তার উত্তর দেওয়া কিংবা কোনো নথি গুছিয়ে নেওয়ার মতো কাজ অল্প সময়েই সম্পন্ন করা যায়। এসব ছোট সাফল্য আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং বড় কাজের চাপও কমিয়ে আনে।
কাজ ফেলে রাখার কারণে অনেকের দিন শেষ হয় গভীর রাতে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে কাজের চাপ কমে এবং ব্যক্তিগত সময় বেড়ে যায়। পরিবার, বন্ধু কিংবা নিজের জন্য আলাদা সময় বের করা সহজ হয়। ফলে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়।
১৯৮০-এর দশকে ইতালীয় উদ্যোক্তা ফ্রান্সেসকো সিরিলো এই পদ্ধতির সূচনা করেন। তিনি টমেটো আকৃতির একটি রান্নাঘরের টাইমার ব্যবহার করতেন। ইতালীয় ভাষায় টমেটোকে বলা হয় ‘পোমোডোরো’। সেখান থেকেই পদ্ধতির নামকরণ। বর্তমানে বিশ্বের লাখো মানুষ পড়াশোনা, অফিসের কাজ, লেখালেখি এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রকল্পে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
কাজের চাপ, অনুপ্রেরণার অভাব কিংবা দীর্ঘসূত্রতা—যে সমস্যাই থাকুক না কেন, প্রতিদিন মাত্র ২৫ মিনিটের মনোযোগী প্রচেষ্টা আপনার উৎপাদনশীলতায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কখনো কখনো জীবন বদলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় শুধু একটি ছোট্ট টাইমার এবং কাজ শুরু করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত।