ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অতিপ্রয়োজনীয় ও প্রাকৃতিক কাজ প্রস্রাব-পায়খানা বা ইস্তেঞ্জা করার ক্ষেত্রেও ইসলাম দিয়েছে চমৎকার কিছু আদব ও শিষ্টাচার। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের জন্য পিতার মতো। আমি তোমাদের সবকিছু শিক্ষা দিয়ে থাকি।’ (সুনানে আবু দাউদ)
নিচে বাথরুমে প্রবেশ, বের হওয়া এবং পবিত্রতা অর্জনের মাসআলা-মাসায়েল বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
বাথরুমে প্রবেশের দোয়া ও নিয়ম-
বাথরুম বা নোংরা জায়গা শয়তান ও জিনের আবাসস্থল। তাই নবীজি (সা.) সেখানে প্রবেশের আগে আল্লাহর আশ্রয় নিতে শিখিয়েছেন।
বাথরুমে প্রবেশের দোয়া হলো—
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
বাংলা উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ইস।’
অর্থ: ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুষ্ট পুরুষ জিন ও দুষ্ট নারী জিনের অনিষ্ট থেকে। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। বাথরুমে বাঁ পা দিয়ে প্রবেশ করা এবং মাথা ঢেকে রাখা সুন্নত।
ইস্তেঞ্জা বা পবিত্রতা অর্জনের সঠিক উপায়-
ইসলামের পরিভাষায়, মলমূত্র ত্যাগের পর নাপাকি দূর করাকে ‘ইস্তেঞ্জা’ বলা হয়। পবিত্রতা অর্জনে পানি ব্যবহার করা সর্বোত্তম। তবে পানি না থাকলে বা পানির পাশাপাশি টিস্যু পেপার, মাটির ঢিলা বা পাথর ব্যবহার করা বৈধ।
টিস্যু বা ঢিলা ব্যবহার: কমপক্ষে তিনটি ঢিলা ব্যবহার করা সুন্নত। (সহিহ মুসলিম)।
নিষিদ্ধ বস্তু: শুকনো হাড় বা গোবর দিয়ে ইস্তেঞ্জা করা যাবে না। কারণ হাড় হলো জিনের খাবার এবং গোবর নাপাক। (সহিহ বুখারি)। এ ছাড়া এসব ব্যবহারের ফলে নানা রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
ডান হাতের ব্যবহার: কোনো ওজর ছাড়া ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করা অনুচিত। সব সময় বাঁ হাত ব্যবহার করতে হবে।
পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ। বাথরুমের এই ছোট ছোট আদব পালনের মাধ্যমে আমরা যেমন শারীরিক রোগবালাই থেকে বাঁচতে পারি, তেমনি শয়তানের অনিষ্ট থেকেও সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।