হোম > ইসলাম

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত

ইসলাম ডেস্ক 

সুরা হাশর

পবিত্র কোরআনের ৫৯তম সুরার নাম সুরা হাশর (سورة الحشر)। ২৪ আয়াতবিশিষ্ট এই সুরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে এই সুরার শেষ তিন আয়াতের (২২-২৪) গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। কারণ, এতে মহান আল্লাহর অত্যন্ত সুন্দর ও শক্তিশালী কিছু গুণবাচক নাম (আসমাউল হুসনা) উল্লেখ করা হয়েছে।

এক নজরে সুরা হাশর বিষয় তথ্য সুরা নম্বর ৫৯ অবস্থান ২৮তম পারা আয়াত সংখ্যা ২৪ রুকু সংখ্যা ৩ অবতরণ মদিনা (মাদানি সুরা)

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত

هُوَ اللّٰهُ الَّذِي لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيمُ ﴿٢٢﴾ هُوَ اللّٰهُ الَّذِي لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللّٰهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿٢٣﴾ هُوَ اللّٰهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٢٤ ﴾

বাংলা উচ্চারণ: ২২. হুওয়াল্লা-হুল্লাজি লা ইলা-হা ইল্লাহুয়া, আ-লিমুল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাদি, হুয়ার রাহমা-নুর রাহি-ম। ২৩. হুওয়াল্লা-হুল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা-হুয়াল মালিকুল কুদ্দু-সুস সালা-মুল মুমিনুল মুহাইমিনুল আজি-জুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বির। সুবহা-নাল্লা-হি আম্মা ইউশরিকু-ন। ২৪. হুওয়াল্লাহুল খা-লিকুল বা-রিউল মুছাওয়িরু লাহুল আসমা-উল হুসনা। ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, ওয়াহুয়াল আজি-জুল হাকি-ম।

বাংলা অনুবাদ: ২২. তিনি আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। তিনি পরম করুণাময়, পরম দয়াময়। ২৩. তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনিই মালিক, তিনিই পবিত্র, তিনিই শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, তিনিই রক্ষক, তিনিই পরাক্রমশালী, তিনিই প্রবল, তিনিই মহিমার অধিকারী। তারা যাকে শরিক করে আল্লাহ তার থেকে পবিত্র ও মহান। ২৪. তিনিই আল্লাহ, সৃজনকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, রূপদাতা, সকল সুন্দর নাম তাঁরই। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত

হাদিস ও তাফসির গ্রন্থে এই আয়াতগুলোর বিশেষ গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে:

  1. ৭০ হাজার ফেরেশতার দোয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘আউজুবিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পাঠ করার পর সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়বে, আল্লাহ তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন। তাঁরা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে। (জামে তিরমিজি: ২৯২২)
  2. শাহাদাতের মর্যাদা: যদি ওই ব্যক্তি ওই দিন মারা যায়, তবে সে শহীদের মৃত্যু লাভ করবে। একইভাবে সন্ধ্যায় পড়লে সকাল পর্যন্ত একই ফজিলত পাওয়া যাবে।
  3. হাজার আয়াতের সমান: রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমের আগে মুসাব্বিহাত (যে সুরাগুলো আল্লাহর পবিত্রতা দিয়ে শুরু হয়) পাঠ করতেন। এর মধ্যে একটি আয়াত আছে, যা এক হাজার আয়াতের চেয়েও উত্তম। সুরা হাশর এই মুসাব্বিহাতের অন্তর্ভুক্ত।

নাজিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

সুরা হাশরের একটি বড় অংশে মদিনার ইহুদি গোত্র বনু নাজিরের নির্বাসনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। আল্লাহ তাআলা ওহির মাধ্যমে নবীজিকে তা জানিয়ে দেন এবং এই সুরায় তাদের অবাধ্যতার পরিণতি ও মুমিনদের সমরনীতি ও চারিত্রিক দৃঢ়তার নির্দেশ দেন।

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করা প্রতিটি মুমিনের দৈনন্দিন আমলের অংশ হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে যেমন আল্লাহর পরিচয় জানা যায়, তেমনি ফেরেশতাদের দোয়া ও শাহাদাতের মর্যাদা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এক দিন পেছাল, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা

খুলনার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

সুরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

চট্টগ্রামের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

রমজান আসন্ন: তাকওয়ার পথে যাত্রা শুরু হোক আজই

বরিশালের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

সুবহে সাদিক কী, কখন শুরু হয়?

রংপুরের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফজরের পর যেসব দোয়া ও আমল করবেন