রাত কিছুটা গভীর। মদিনার বাতাস শান্ত। সাহাবি উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) একটি জরুরি প্রয়োজনে রাসুল (সা.)-এর বাড়ির দিকে ছুটে চললেন। দরজায় দাঁড়িয়ে ডাকতেই ভেতর থেকে প্রিয় নবী (সা.) পিঠে কিছু একটা জড়িয়ে বেরিয়ে এলেন।
উসামা (রা.) তাঁর প্রয়োজনটি জানালেন। নবীজি ধৈর্য ধরে শুনলেন, সমাধান দিলেন। কাজ শেষে যখন উসামা ফিরতে যাচ্ছিলেন, তাঁর চোখ গেল নবীজির পিঠে জড়ানো আবছা জিনিসটার দিকে। কৌতূহল চাপতে না পেরে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার পিঠে ওটা কী?’
এক মায়াবী হাসি হেসে রাসুল (সা.) তাঁর গায়ে জড়ানো কাপড়টি সরালেন। উসামা দেখলেন, দুটি শিশুর নিষ্পাপ মুখ। যেন একই সঙ্গে দুটি পূর্ণিমার চাঁদ উদয় হয়েছে! তাঁর বুকের স্পন্দন থেমে গেল। এ যে হাসান আর হুসাইন, নবীজির কলিজার টুকরা! নবীজি তাঁদের এমনভাবে জড়িয়ে ধরে আছেন, যেন এই পৃথিবীর সব ভালোবাসা এক হয়ে গেছে তাঁর বুকে।
নবীজি (সা.) আলতো করে তাঁদের একজনের মাথায় হাত বুলিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহ, আমি এদের দুজনকে ভালোবাসি। তুমিও তাঁদের ভালোবাসো। আর যে ব্যক্তি তাঁদের ভালোবাসবে, তুমি তাকেও ভালোবাসো।’
উসামা সেই রাতে ফিরেছিলেন। আর মনে মনে বলছিলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলো ভালোবাসা।’ আর সেই ভালোবাসা পেয়ে ধন্য হাসান ও হুসাইন।
তথ্যসূত্র: জামে তিরমিজি: ৩৭৬৯