হোম > ইসলাম

সুরা ইয়াসিনের ফজিলত ও অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ

সুরা ইয়াসিনকে পবিত্র কোরআনের হৃৎপিণ্ড বলা হয়। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ, যেমন তাওহিদ, রিসালাত এবং পরকাল সম্পর্কে এই সুরায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও ছন্দময় ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।

ইসলাম ডেস্ক 

সুরা ইয়াসিন।

পবিত্র কোরআনুল কারিমের ৩৬তম সুরা হলো সুরা ইয়াসিন। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরাটির আয়াত সংখ্যা ৮৩ এবং রুকু সংখ্যা ৫।

সুরা ইয়াসিনের বিশেষ ৫ ফজিলত

হাদিস ও সালফে সালেহিনদের বর্ণনা অনুযায়ী সুরা ইয়াসিনের মাহাত্ম্য অপরিসীম। নিচে এর প্রধান কিছু ফজিলত তুলে ধরা হলো:

  • ১. কোরআনের হৃৎপিণ্ড: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সবকিছুরই একটি হৃদয় থাকে, আর কোরআনের হৃদয় হলো সুরা ইয়াসিন।’ (জামে তিরমিজি: ২৮৮৭)। যেমন শরীরের সকল কাজ হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে, তেমনি কোরআনের মূল নির্যাস এই সুরায় বিদ্যমান।
  • ২. দশবার কোরআন খতমের সওয়াব: হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি একবার সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে, আল্লাহ তার আমলনামায় দশবার পূর্ণ কোরআন পড়ার নেকি দান করবেন। (জামে তিরমিজি: ২৮৮৭)
  • ৩. গুনাহ মাফের মাধ্যম: হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাতে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
  • ৪. মৃত্যুর যন্ত্রণা লাঘব: মুমূর্ষু ব্যক্তির শিয়রে সুরা ইয়াসিন পাঠ করা মুস্তাহাব। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের নিকট সুরা ইয়াসিন পাঠ করো।’ (সুনানে আবু দাউদ। এতে মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয় এবং রুহ বের হওয়ার সময় শান্তি অর্জিত হয়। (তাফসিরে মাজহারি)
  • ৫. মনের আশা ও হাজত পূরণ: হজরত আতা বিন আবি রাবাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি দিনের শুরুতে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে, তার সব হাজত (প্রয়োজন) পূর্ণ করা হবে।’ (সুনানে দারেমি: ৩৪৬১)

ইয়া সিন শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা

অনেকে এর অর্থ ‘হে ব্যক্তি!’ বা ‘হে মানুষ!’ বলেছেন। আবার কারও মতে এটি নবী করিম (সা.)-এর অন্যতম নাম, কেউ কেউ একে আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নামগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এই মতগুলোর সপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। প্রকৃতপক্ষে এটি পবিত্র কোরআনের সেই ‘হুরুফে মুকাত্তাআত’ বা বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার প্রকৃত রহস্য বা অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। (তাফসিরে বাগাভি, তাফসিরে তাবারি, তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

সুরা ইয়াসিন (سورة يس) আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

১. يس

(ইয়াসি-ন)

অর্থ: ইয়া সিন।

২. وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ

(ওয়াল কুরআ-নিল হাকিম)

অর্থ: শপথ প্রজ্ঞাময় কোরআনের।

৩. إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ

(ইন্নাকা লামিনাল মুরসালি-ন)

অর্থ: নিশ্চয়ই আপনি রাসুলগণের একজন।

৪. عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

(আলা-সিরা-তিম মুস্তাকিম)

অর্থ: সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

৫. تَنزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ

(তানযিলাল আজিজির রাহিম)

অর্থ: এই কোরআন পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

৬. لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أُنذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ

(লিতুনজিরা কাওমাম মা-উনজিরা আ-বা-উহুম ফাহুম গা-ফিলুন)

অর্থ: যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্বপুরুষদের সতর্ক করা হয়নি, ফলে তারা গাফেল।

৭. لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَىٰ أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

(লাকদ হাককাল কাওলু আলা আকছারিহিম ফাহুম লা-ইউমিনুন)

অর্থ: তাদের অধিকাংশের ওপর অবশ্যই কথা (আজাবের ফয়সালা) অবধারিত হয়েছে, ফলে তারা বিশ্বাস করবে না।

৮. إِنَّا جَعَلْنَا فِي أَعْنَاقِهِمْ أَغْلَالًا فَهِيَ إِلَى الْأَذْقَانِ فَهُم مُّقْمَحُونَ

(ইন্না-জাআলনা-ফি আনা-কিহিম আগলা-লান ফাহিইয়া ইলাল আজকা-নি ফাহুম মুকমাহুন)

অর্থ: আমি তাদের গর্দানে চিবুক পর্যন্ত বেড়ি পরিয়েছি, ফলে তাদের মাথা উপরের দিকে ঝুঁকে গেছে।

৯. وَجَعَلْنَا مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ

(ওয়াজাআলনা মিম বাইনি আইদিহিম সাদ্দাওঁ ওয়া মিন খালফিহিম সাদ্দান ফাআগশাইনা-হুম ফাহুম লা-ইউবসিরুন)

অর্থ: আমি তাদের সামনে ও পেছনে প্রাচীর গড়ে দিয়েছি এবং তাদের ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা দেখতে পায় না।

১০. وَسَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

(ওয়া সাওয়া-উন আলাইহিম আ-আনজারতাহুম আম লাম তুনজিরহুম লা-ইউমিনুন)

অর্থ: আপনি তাদের সতর্ক করেন আর না করেন, তাদের জন্য উভয়ই সমান; তারা বিশ্বাস করবে না।

১১. إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ ۖ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ

(ইন্নামা তুনজিরু মানিত্তাবাআজ্জিকরা ওয়া খাশিয়ার রাহমা-না বিলগাইবি ফাবাশশিরহু বিমাগফিরাতিওঁ ওয়া আজরিন কারিম)

অর্থ: আপনি কেবল তাদেরই সতর্ক করতে পারেন যারা উপদেশ মেনে চলে এবং পরম দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে। আপনি তাকে ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন।

১২. إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ ۚ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُّبِينٍ

(ইন্না নাহনু নুহয়িল মাওতা ওয়া নাকতুবু মা কাদ্দামু ওয়া আ-ছা-রাহুম; ওয়া কুল্লা শাইয়িন আহসাইনা-হু ফি ইমা-মিম মুবিন)

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি মৃতদের জীবিত করি এবং তারা যা অগ্রিম পাঠিয়েছে ও যা পেছনে রেখে গেছে তা লিখে রাখি। আমি প্রতিটি বিষয় এক সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত করেছি।

১৩. وَاضْرِبْ لَهُم مَّثَلًا أَصْحَابَ الْقَرْيَةِ إِذْ جَاءَهَا الْمُرْسَلُونَ

(ওয়াদরিব লাহুম মাছালান আসহা-বাল কারইয়াহ্; ইজ জা-আহাল মুরসালুন)

অর্থ: আপনি তাদের কাছে এক জনপদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করুন, যখন সেখানে রাসুলগণ এসেছিলেন।

১৪. إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُم مُّرْسَلُونَ

(ইজ আরসালনা ইলাইহিমুছ নাইনি ফাকাজ্জাবুহুমা ফাআজ্জাজনা বিছা-লিছিন ফাকা-লু ইন্না-ইলাইকুম মুরসালুন)

অর্থ: আমি তাদের কাছে দুজন রাসুল পাঠিয়েছিলাম, তারা তাদের অস্বীকার করল। তখন আমি তৃতীয় একজনকে দিয়ে শক্তিশালী করলাম। তারা বললেন, ‘আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি।’

১৫. قَالُوا مَا أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَمَا أَنزَلَ الرَّحْمَٰنُ مِن شَيْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ

(কা-লু মা আনতুম ইল্লা বাশারুম মিছলুনা ওয়ামা আনজালার রাহমা-নু মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা তাকজিবুন)

অর্থ: তারা বলল, ‘তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ। দয়াময় আল্লাহ তো কিছুই নাজিল করেননি, তোমরা কেবল মিথ্যাই বলছ।’

১৬. قَالُوا رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّا إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ

(কা-লু রাব্বুনা ইয়ালামু ইন্না ইলাইকুম লামুরসালুন)

অর্থ: রাসুলগণ বললেন, ‘আমাদের রব জানেন যে, অবশ্যই আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত।’

১৭. وَمَا عَلَيْنَا إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ

(ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালা-গুল মুবিন)

অর্থ: ‘পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব।’

১৮. قَالُوا إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ ۖ لَئِن لَّمْ تَنتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ

(কা-লু ইন্না তাতাইয়ারনা বিকুম; লাইল লাম তানতাহু লানারজুমান্নাকুম ওয়ালাইয়ামাস্সান্নাকুম মিন্না আজা-বুন আলিম)

অর্থ: তারা বলল, ‘আমরা তোমাদের অমঙ্গলজনক মনে করছি। যদি তোমরা বিরত না হও, তবে আমরা তোমাদের পাথর ছুড়ে মারব এবং আমাদের পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তোমাদের স্পর্শ করবে।’

১৯. قَالُوا طَائِرُكُم مَّعَكُمْ ۚ أَئِن ذُكِّرْتُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ

(কা-লু তা-ইরুকুম মাআকুম; আ-ইন জুক্কিরতুম; বাল আনতুম কাওমুম মুসরিফুন)

অর্থ: রাসুলগণ বললেন, ‘তোমাদের অমঙ্গল তোমাদের সঙ্গেই। তোমাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে বলেই কি (এসব বলছ)? বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।’

২০. وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَىٰ قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ

(ওয়াজা-আ মিন আকসাল মাদিনাতি রাজুলুই ইয়াসআ; কা-লা ইয়াকাওমিত তাবিউল মুরসালিন)

অর্থ: শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল। সে বলল, ‘হে আমার দেশবাসী, তোমরা রাসুলদের অনুসরণ করো।’

২১. اتَّبِعُوا مَن لَّا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُم مُّهْتَدُونَ

(ইত্তাবিউ মাল লা ইয়াসআলুকুম আজরাওঁ ওয়াহুম মুহতাদুন)

অর্থ: ‘অনুসরণ করো তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় চায় না এবং যারা সৎপথপ্রাপ্ত।’

২২. وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

(ওয়ামা লিয়া লা আবুদুল্লাজি ফাতারানি ওয়া ইলাইহি তুরজাউন)

অর্থ: ‘আমার কী হয়েছে যে আমি তাঁর ইবাদত করব না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? আর তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।’

২৩. أَأَتَّخِذُ مِن دُونِهِ آلِهَةً إِن يُرِدْنِ الرَّحْمَٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنقِذُونِ

(আ আত্তাখিজু মিন দুনিহি আ-লিহাতান ইয়্যুরিদনির রাহমা-নু বিদুররিল লা তুগনি আন্নি শাফা-আতুহুম শাইআওঁ ওয়ালা ইয়ুনকিজুন)

অর্থ: ‘আমি কি তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য উপাস্য গ্রহণ করব? দয়াময় আল্লাহ যদি আমাকে কষ্ট দিতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না।’

২৪. إِنِّي إِذًا لَّفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

(ইন্নি ইজাল লাফি দালা-লিম মুবিন)

অর্থ: ‘তখন আমি অবশ্যই স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত হব।’

২৫. إِنِّي آمَنتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُونِ

(ইন্নি আ-মানতু বিরাব্বিকুম ফাসমাউন)

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের রবের ওপর ইমান এনেছি, অতএব আমার কথা শোনো।’

২৬. قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ ۖ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ

(কিলাদ খুলিল জান্নাহ; কা-লা ইয়ালাইতা কাওমি ইয়ালামুন)

অর্থ: (অতঃপর তাকে হত্যা করা হলো এবং) তাকে বলা হলো, ‘জান্নাতে প্রবেশ করো।’ সে বলল, ‘হায়! আমার জাতি যদি জানতে পারত!’

২৭. بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ

(বিমা গাফারা লি রাব্বি ওয়াজাআলানি মিনাল মুকরামিন)

অর্থ: ‘যে আমার রব আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’

২৮. وَمَا أَنزَلْنَا عَلَىٰ قَوْمِهِ مِن بَعْدِهِ مِن جُندٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَمَا كُنَّا مُنزِلِينَ

(ওয়ামা আনজালনা আলা কাওমিহি মিম বাদিহি মিন জুনদিম মিনাস সামা-ই ওয়ামা কুন্না মুনজিলিন)

অর্থ: তার মৃত্যুর পর আমি তার জাতির ওপর আকাশ থেকে কোনো সেনাবাহিনী পাঠাইনি এবং পাঠানোর প্রয়োজনও ছিল না।

২৯. إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَامِدُونَ

(ইন কা-নাত ইল্লা সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান ফাইজা হুম খা-মিদুন)

অর্থ: তা ছিল কেবল এক মহানাদ। ফলে তারা সবাই স্তব্ধ (নিথর) হয়ে গেল।

৩০. يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ ۚ مَا يَأْتِيهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ

(ইয়া হাসরাতান আলাল ইবা-দি মা ইয়াতিহিম মির রাসুলিন ইল্লা কা-নু বিহি ইয়াস্তাহজিউন)

অর্থ: বান্দাদের জন্য আক্ষেপ! তাদের কাছে যখনই কোনো রাসুল এসেছে, তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছে।

৩১. أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّنَ الْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ

(আলাম ইয়ারাও কাম আহলাকনা কাবলাহুম মিনাল কুরুনি আন্নাহুম ইলাইহিম লা ইয়ারজিউন)

অর্থ: তারা কি দেখেনি—তাদের আগে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি? যারা আর কখনো তাদের মাঝে ফিরে আসবে না।

৩২. وَإِن كُلٌّ لَّمَّا جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ

(ওয়া ইন কুল্লুল লাম্মা জামিউল লাদাইনা মুহদারুন)

অর্থ: তাদের প্রত্যেককেই সমবেতভাবে আমার দরবারে উপস্থিত হতে হবে।

৩৩. وَآيَةٌ لَّهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ

(ওয়া আ-য়াতুল লাহুমুল আরদুল মাইতাতু আহয়াইনা-হা ওয়া আখরাজনা মিনহা হাব্বান ফামিনহু ইয়াকুলুন)

অর্থ: তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো মৃত ভূমি; আমি তাকে পুনর্জীবিত করি এবং তা থেকে শস্য উৎপাদন করি, যা তারা আহার করে।

৩৪. وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّاتٍ مِّن نَّخِيلٍ وَأَعْنَابٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنَ الْعُيُونِ

(ওয়াজাআলনা ফিহা জান্না-তিম মিন নাখিলিওঁ ওয়া আনা-বিওঁ ওয়া ফাজ্জারনা ফিহা মিনাল উয়ুন)

অর্থ: আমি তাতে খেজুর ও আঙুরের বাগান তৈরি করেছি এবং সেখানে ঝরনা প্রবাহিত করেছি।

৩৫. لِيَأْكُلُوا مِن ثَمَرِهِ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ ۖ أَفَلَا يَشْكُرُونَ

(লি ইয়াকুলু মিন ছামারিহি ওয়ামা আমিলাতহু আইদিহিম; আফালা ইয়াশকুরুন)

অর্থ: যাতে তারা ফল আহার করতে পারে; এসব তাদের হাত তৈরি করেনি। তবে কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?

৩৬. سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ

(সুবহা-নাল্লাজি খালাকাল আজওয়া-জা কুল্লাহা মিম্মা তুনবিতুল আরদু ওয়া মিন আনফুসিহিম ওয়ামিম মা লা ইয়ালামুন)

অর্থ: পবিত্র সেই সত্তা, যিনি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন সবকিছু—যা ভূমি উৎপাদন করে, তাদের নিজেদের মধ্য থেকে এবং এমন বস্তু থেকেও যা তারা জানে না।

৩৭. وَآيَةٌ لَّهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُم مُّظْلِمُونَ

(ওয়া আ-য়াতুল লাহুমুল লাইলু নাসলাখু মিনহুন্নাহা-রা ফাইজা হুম মুজলিমুন)

অর্থ: তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো রাত; আমি তা থেকে দিন সরিয়ে নেই, তখনই তারা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

৩৮. وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

(ওয়াশশামসু তাজরি লিমুস্তাকাররিল লাহা; জা-লিকা তাকদিরুল আজিজিল আলিম)

অর্থ: আর সূর্য তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে। এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত নিয়ন্ত্রণ।

৩৯. وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّىٰ عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ

(ওয়াল কামারা কাদ্দারনা-হু মানা-জিলা হাত্তা-আ-দা কাল উরজুনিল কাদিম)

অর্থ: চাঁদের জন্য আমি বিভিন্ন মঞ্জিল নির্ধারিত করেছি; অবশেষে সেটি শুকনা খেজুর শাখার মতো সরু হয়ে যায়।

৪০. لَا الشَّمْسُ يَنبَغِي لَهَا أَن تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ ۚ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ

(লাশশামসু ইয়ামবাগি লাহা আন তুদরিকাল কামারা ওয়ালাল লাইলু সা-বিকুন্নাহা-র, ওয়া কুল্লুন ফি ফালাকিই ইয়াসবাহুন)

অর্থ: সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদকে ধরে ফেলা, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে ছাড়িয়ে আগে যাওয়া। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।

৪১. وَآيَةٌ لَّهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ

(ওয়া আ-য়াতুল লাহুম আন্না হামালনা জুররিইয়াতাহুম ফিল ফুলকিল মাশহুন)

অর্থ: তাদের জন্য একটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের পূর্বপুরুষদের আরোহণ করিয়েছিলাম বোঝাই নৌকায়।

৪২. وَخَلَقْنَا لَهُم مِّن مِّثْلِهِ مَا يَرْكَبُونَ

(ওয়া খালাকনা লাহুম মিম মিছলিহি মা ইয়ারকাবুন)

অর্থ: এবং আমি তাদের জন্য অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে।

৪৩. وَإِن نَّشَأْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِيخَ لَهُمْ وَلَا هُمْ يُنقَذُونَ

(ওয়া ইন নাশা নুগরিকহুম ফালা সারিখা লাহুম ওয়ালা হুম ইয়ুনকাজুন)

অর্থ: আমি ইচ্ছা করলে তাদের ডুবিয়ে দিতে পারি, তখন তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না এবং তারা রক্ষা পাবে না।

৪৪. إِلَّا رَحْمَةً مِّنَّا وَمَتَاعًا إِلَىٰ حِينٍ

(ইল্লা রাহমাতাম মিন্না ওয়ামাতা-আন ইলা হিন)

অর্থ: কিন্তু আমার পক্ষ থেকে করুণা এবং এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জীবন উপভোগের সুযোগ দেওয়ার জন্য (আমি তা করি না)।

৪৫. وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّقُوا مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

(ওয়া ইজা কিলা লাহুমুত্তাকু মা বাইনা আইদিকুম ওয়ামা খালফাকুম লাআল্লাকুম তুরহামুন)

অর্থ: যখন তাদের বলা হয়, তোমাদের সামনে ও পেছনে যা আছে তা ভয় করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও (তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)।

৪৬. وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ آيَةٍ مِّنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ

(ওয়ামা তাতিহিম মিন আ-ইয়াতিম মিন আ-য়া-তি রাব্বিহিম ইল্লা কা-নু আনহা মুরিদিন)

অর্থ: তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলির মধ্য থেকে এমন কোনো নিদর্শন তাদের কাছে আসে না, যা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় না।

৪৭. وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَنفِقُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنُطْعِمُ مَن لَّوْ يَشَاءُ اللَّهُ أَطْعَمَهُ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

(ওয়া ইজা কিলা লাহুম আনফিকু মিম্মা-রাজাকাকুমুল্লা-হু কা-লাল্লাজিনা কাফারু লিল্লাজিনা আ-মানু আনুতইমু মাল লাও ইয়াশা-উল্লা-হু আতআমাহু; ইন আনতুম ইল্লা ফি দালা-লিম মুবিন)

অর্থ: যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ তোমাদের যা রিজিক দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করো, তখন কাফিররা মুমিনদের বলে, ‘আমরা কি তাকে খাওয়াব, যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করলে খাওয়াতে পারতেন? তোমরা তো কেবল স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছ।’

৪৮. وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

(ওয়া ইয়াকুলুনা মাতা হা-জাল ওয়াদু ইন কুনতুম সা-দিকিন)

অর্থ: তারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বলো এই প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত) কবে হবে?’

৪৯. مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخِصِّمُونَ

(মা ইয়ানজুরুনা ইল্লা সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান তাখুজুহুম ওয়া হুম ইয়াখিসসিমুন)

অর্থ: তারা কেবল একটি মহানাদের অপেক্ষা করছে, যা তাদের পাকড়াও করবে তাদের বাদানুবাদ করা অবস্থায়।

৫০. فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَىٰ أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ

(ফালা ইয়াস্তাতি-উনা তাওসিয়াতাওঁ ওয়ালা ইলা আহলিহিম ইয়ারজিউন)

অর্থ: তখন তারা কোনো অসিয়ত করতে পারবে না এবং নিজ পরিবারের কাছে ফিরেও যেতে পারবে না।

৫১. وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ

(ওয়া নুফিখা ফিসসুরি ফাইজা হুম মিনাল আজদা-ছি ইলা রাব্বিহিম ইয়ানসিলুন)

অর্থ: যখন সিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের প্রতিপালকের দিকে ছুটে চলবে।

৫২. قَالُوا يَا وَيْلَنَا مَن بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا ۜ ۗ هَٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَٰنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ

(কা-লু ইয়া ওয়াইলাইনা মাম বাআছানা মিম মারকদিনা; হা-জা মা ওয়াআদার রাহমা-নু ওয়া সাদাকাল মুরসালুন)

অর্থ: তারা বলবে, ‘হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদের নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তুলল?’ (আল্লাহ বলবেন) ‘পরম দয়াময় তো এরই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং রাসুলগণ সত্য বলেছিলেন।’

৫৩. إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ

(ইন কা-নাত ইল্লা সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান ফাইজা হুম জামিউল লাদাইনা মুহদারুন)

অর্থ: তা হবে কেবল এক মহানাদ। অমনি তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে।

৫৪. فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

(ফাল ইয়াওমা লা তুজলামু নাফসুন শাইআওঁ ওয়ালা তুজ্জাওনা ইল্লা মা কুনতুম তামালুন)

অর্থ: আজ কারো ওপর সামান্য জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করতে কেবল তারই প্রতিদান দেওয়া হবে।

৫৫. إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ

(ইন্না আসহা-বাল জান্নাতিল ইয়াওমা ফি শুগুলিন ফা-কিহুন)

অর্থ: নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা আজ আনন্দে মশগুল থাকবে।

৫৬. هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِئُونَ

(হুম ওয়া আজওয়া-জুহুম ফি জিলা-লিন আলাল আরা-ইকি মুত্তাকিউন)

অর্থ: তারা এবং তাদের স্ত্রীরা সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে।

৫৭. لَهُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ وَلَهُم مَّا يَدَّعُونَ

(লাহুম ফিহা ফা-কিহাতুওঁ ওয়া লাহুম মা ইয়াদ্দাউন)

অর্থ: সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফলমূল এবং যা তারা চাইবে।

৫৮. سَلَامٌ قَوْلًا مِّن رَّبٍّ رَّحِيمٍ

(সালা-মুন কাওলাম মির রাব্বির রাহিম)

অর্থ: পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদের বলা হবে—‘সালাম’ (শান্তি)।

৫৯. وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ

(ওয়ামতা-জুল ইয়াওমা আইয়ুহাল মুজরিমুন)

অর্থ: (বলা হবে) হে অপরাধীরা, আজ তোমরা পৃথক হয়ে যাও।

৬০. أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَن لَّا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ ۖ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

(আলাম আহাদ ইলাইকুম ইয়াবানি আ-দামা আল লা তাবুদুশ শাইতা-না ইন্নাহু লাকুম আদুউয়ুম মুবিন)

অর্থ: হে আদম সন্তান, আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করো না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

৬১. وَأَنِ اعْبُدُونِي ۚ هَٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ

(ওয়া আনিবুদুনি; হা-জা সিরা-তুম মুস্তাকিম)

অর্থ: আর এই যে, আমারই ইবাদত করো; এটাই সঠিক পথ।

৬২. وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنكُمْ جِبِلًّا كَثِيرًا ۖ أَفَلَمْ تَكُونُوا تَعْقِلُونَ

(ওয়ালাকাদ আদাল্লা মিনকুম জিবিললান কাছিরা; আফালাম তাকুনু তাকিলুন)

অর্থ: শয়তান তোমাদের মধ্য থেকে বহু দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বোঝোনি?

৬৩. هَٰذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ

(হা-জিহি জাহান্নামুল্লাতি কুনতুম তুআদুন)

অর্থ: এই সেই জাহান্নাম, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল।

৬৪. ٱصْلَوْهَا ٱلْيَوْمَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ

(ইসলাউহাল ইয়াওমা বিমা কুনতুম তাকফুরুন)

অর্থ: তোমাদের কুফরির কারণে আজ এতে প্রবেশ করো।

৬৫. الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَىٰ أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ

(আলইয়াওমা নাখতিমু আলা আফওয়া-হিহিম ওয়া তু কাল্লিমুনা আইদিহিম ওয়া তাশহাদু আরজুলুহুম বিমা কা-নু ইয়াকসিবুন)

অর্থ: আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।

৬৬. وَلَوْ نَشَاءُ لَطَمَسْنَا عَلَىٰ أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّىٰ يُبْصِرُونَ

(ওয়ালাও নাশা-উ লাতামাসনা আলা আইউনিহিম ফাস্তাবাকুস সিরা-তা ফাআন্না ইউবসিরুন)

অর্থ: আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়ালে কীভাবে দেখতে পেত?

৬৭. وَلَوْ نَشَاءُ لَمَسَخْنَاهُمْ عَلَىٰ مَكَانَتِهِمْ فَمَا اسْتَطَاعُوا مُضِيًّا وَلَا يَرْجِعُونَ

(ওয়ালাও নাশা-উ লামাসাকনা-হুম আলা মাকা-নাতিহিম ফামাস্তাতা-উ মুদিইইয়াওঁ ওয়ালা ইয়ারজিউন)

অর্থ: আমি ইচ্ছা করলে নিজ স্থানেই তাদের আকৃতি পরিবর্তন করে দিতে পারতাম, তখন তারা সামনে এগোতেও পারত না এবং পেছনে ফিরেও যেতে পারত না।

৬৮. وَمَن نُّعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِي الْخَلْقِ ۖ أَفَلَا يَعْقِلُونَ

(ওয়ামান নুআম্মিরহু নুনাককিসহু ফিল খালকি; আফালা ইয়াকিলুন)

অর্থ: আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দিই, তাকে সৃষ্টিগতভাবে উল্টে দিই (অসহায় করে দিই)। তবুও কি তারা বোঝে না?

৬৯. وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنبَغِي لَهُ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُّبِينٌ

(ওয়ামা আল্লামনা-হুশ শিরা ওয়ামা ইয়ামবাগিল্লাহু; ইন হুয়া ইল্লা জিকরুওঁ ওয়া কুরআ-নুম মুবিন)

অর্থ: আমি তাঁকে (রাসুলকে) কবিতা শেখাইনি এবং এটা তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়। এটা তো কেবল উপদেশ এবং স্পষ্ট কোরআন।

৭০. لِّيُنذِرَ مَن كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ

(লিতুনজিরা মান কা-না হাইইয়াওঁ ওয়া ইয়াহিককাল কাওলু আলাল কা-ফিরিন)

অর্থ: যাতে তিনি সতর্ক করতে পারেন জীবিতদের এবং যাতে কাফেরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

৭১. أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا خَلَقْنَا لَهُم مِّمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا أَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مَالِكُونَ

(আওয়ালাম ইয়ারাও আন্না খালাকনা লাহুম মিম্মা আমিলাত আইদিনা আনআ-মান ফাহুম লাহা মা-লিকুন)

অর্থ: তারা কি দেখে না যে, আমি আমার কুদরতে তাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি এবং তারা এগুলোর মালিক?

৭২. وَذَلَّلْنَاهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوبُهُمْ وَمِنْهَا يَأْكُلُونَ

(ওয়া জাললালনা-হা লাহুম ফামিনহা রাকুবুহুম ওয়া মিনহা ইয়াকুলুন)

অর্থ: আমি এগুলোকে তাদের বশীভূত করে দিয়েছি। এগুলোর মধ্যে কিছু তাদের বাহন আর কিছু তারা আহার করে।

৭৩. وَلَهُمْ فِيهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ ۖ أَفَلَا يَشْكُرُونَ

(ওয়া লাহুম ফিহা মানা-ফিউ ওয়া মাশা-রিব; আফালা ইয়াশকুরুন)

অর্থ: তাদের জন্য এগুলোতে রয়েছে বহু উপকার এবং পানীয়। তবুও কি তারা শুকরিয়া আদায় করবে না?

৭৪. وَاتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لَّعَلَّهُمْ يُنصَرُونَ

(ওয়াত্তাখাজু মিন দুনিল্লা-হি আ-লিহাতাল লাআল্লাহুম ইয়ুনসারুন)

অর্থ: তারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করেছে এই আশায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।

৭৫. لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَهُمْ وَهُمْ لَهُمْ جُندٌ مُّحْضَرُونَ

(লা ইয়াসতাতিউ-না নাসরাহুম ওয়া হুম লাহুম জুনদুম মুহদারুন)

অর্থ: ওগুলো তাদের সাহায্য করতে পারবে না, বরং ওগুলো তাদের বিরুদ্ধে বাহিনী হিসেবে উপস্থিত হবে।

৭৬. فَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْ ۘ إِنَّا نَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ

(ফালা ইয়াহজুনকা কাওলুহুম; ইন্না নালামু মা ইউসিররুনা ওয়ামা ইউলিনুন)

অর্থ: অতএব তাদের কথা যেন আপনাকে দুঃখিত না করে। আমি জানি তারা যা গোপনে করে এবং যা প্রকাশ করে।

৭৭. أَوَلَمْ يَرَ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِن نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ

(আওয়ালাম ইয়ারাল ইনসা-নু আন্না খালাকনাহু মিন নুতফাতিন ফাইজা হুয়া খাসিমুম মুবিন)

অর্থ: মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বিতর্ককারী।

৭৮. وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ ۖ قَالَ مَن يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ

(ওয়াদারাবা লানা মাছালাওঁ ওয়া নাসিয়া খালকাহু; কা-লা মাই ইয়ুহয়িল ইজামা ওয়া হিয়া রামিম)

অর্থ: সে আমার ওপর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অথচ নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায়। সে বলে, ‘অস্থিগুলো যখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে, তখন কে এগুলোকে জীবিত করবে?’

৭৯. قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ

(কুল ইয়ুহয়ি-হাল্লাজি আনশাআহা আউওয়ালা মাররাতিন ওয়া হুয়া বিকুল্লি খালকিন আলিম)

অর্থ: বলুন, ‘যিনি এগুলো প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন তিনিই জীবিত করবেন এবং তিনি প্রতিটি সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।’

৮০. الَّذِي جَعَلَ لَكُم مِّنَ الشَّجَرِ الْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَا أَنتُم مِّنْهُ تُوقِدُونَ

(আল্লাজি জাআলা লাকুম মিনাশ শাজারিল আখদারি না-রান ফাইজা আনতুম মিনহু তুকিদুন)

অর্থ: তিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ থেকে অগ্নি উৎপাদন করেন, যা দিয়ে তোমরা আগুন জ্বালাও।

৮১. أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَىٰ أَن يَخْلُقَ مِثْلَهُم ۚ بَلَىٰ وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ

(আওয়ালাইসাল্লাজি খালাকাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বি কা-দিরিন আলা আই ইয়াখলুকা মিছলাহুম; বালা ওয়া হুয়াল খাল্লা-কুল আলিম)

অর্থ: যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের মতো পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, অবশ্যই! তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।

৮২. إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَن يَقُولَ لَهُ كُن فَيَكُونُ

(ইন্নামা আমরুহু ইজা আরা-দা শাইআন আই ইয়াকুলা লাহু কুন ফা ইয়াকুন)

অর্থ: যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাঁর নির্দেশ কেবল এই যে, তিনি বলেন ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়।

৮৩. فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

(ফাসুবহা-নাল্লাজি বিইয়াদিহি মালাকুতু কুল্লি শাইয়াওঁ ওয়া ইলাইহি তুরজাউন)

অর্থ: অতএব পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর হাতে প্রতিটি বস্তুর সার্বভৌম ক্ষমতা এবং তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।

صدق الله العظيم

সুরা ইয়াসিনের বিষয়বস্তু ও পটভূমি

এই সুরায় মহান আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও জাগতিক নিদর্শনের মাধ্যমে নিজের সার্বভৌমত্ব তুলে ধরেছেন:

  1. রাসুল (সা.)-এর রিসালাত: সুরার শুরুতে আল্লাহ তাআলা কোরআনের শপথ করে মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়াতের সত্যতা ঘোষণা করেছেন।
  2. হাবিবে নাজ্জারের কাহিনি: এই সুরায় এমন এক জনপদের কাহিনি আছে যারা তিনজন নবীকে অস্বীকার করেছিল। তখন হাবিবে নাজ্জার নামক এক ব্যক্তি ইমান এনে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন। তাঁর শাহাদাত ও জান্নাতে প্রবেশের ঘটনা মুমিনদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
  3. প্রকৃতির নিদর্শন: বৃষ্টি, মৃত ভূমি সজীব হওয়া, দিন-রাত্রির পরিবর্তন এবং চন্দ্র-সূর্যের কক্ষপথের শৃঙ্খলার মাধ্যমে আল্লাহর কুদরতের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
  4. কিয়ামত ও পুনরুত্থান: কিয়ামতের বিভীষিকা, শিঙায় ফুৎকার এবং হাশরের ময়দানে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি এখানে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সুরা ইয়াসিনের আমল

  • সকালে পাঠ: সারা দিন শান্তিতে ও স্বস্তিতে থাকার জন্য সকালে পাঠ করা উত্তম।
  • রাতে পাঠ: গুনাহ মাফ ও নিষ্পাপ অবস্থায় ঘুম থেকে ওঠার জন্য রাতে পাঠ করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
  • মুখস্থ করা: এটি খুব দীর্ঘ সুরা নয় এবং এর আয়াতগুলো ছন্দময় হওয়ায় ৫-১০ দিনের প্রচেষ্টায় এটি মুখস্থ করা সম্ভব। এটি আপনার ইমানকে মজবুত করবে।

সুরা ইয়াসিন সওয়াব অর্জনের মাধ্যম, জীবনদর্শন পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম। নিয়মিত অর্থসহ এই সুরাটি তিলাওয়াত করলে ইহকাল ও পরকালে শান্তি ও বরকত লাভ করা সম্ভব।

দোয়া মাসুরা অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও পড়ার নিয়ম

পড়া মনে রাখার দোয়া ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির আমল

গোসল ফরজ হয় যেসব কারণে

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

ইসমে আজম কী? কেন এই দোয়ার এত গুরুত্ব?

সুরা দুহা: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

বাথরুম থেকে বের হওয়ার দোয়া ও আদব

ঋণ থেকে মুক্তির দোয়া ও আমল

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬