পবিত্র কোরআনের ১১৩তম সুরার নাম সুরা ফালাক। জাদুটোনা, শয়তানের প্ররোচনা, হিংসুকদের কুদৃষ্টি এবং যেকোনো বিপদের হাত থেকে আল্লাহর কাছে নিরাপদ আশ্রয় চাওয়ার জন্য সুরা ফালাক ও সুরা নাসের জুড়ি মেলা ভার। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিপদে-আপদে ও অসুস্থতায় নিয়মিত এই সুরা দুটির ওপর আমল করতেন।
সুরা ফালাক (سورة الفلق)
আরবি বাংলা উচ্চারণ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ কুল আ’উযু বিরাব্বিল ফালাক। مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ মিং শাররি মা-খালাক। وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ওয়া মিং শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব। وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ওয়া মিং শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল উকাদ। وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ওয়া মিং শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।
সুরা ফালাকের অনুবাদ
পবিত্র কোরআনের এই সুরার ১ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে—
‘বলো, আমি শরণ নিচ্ছি উষার স্রষ্টার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অমঙ্গল হতে; অমঙ্গল হতে রাত্রির, যখন তা গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়; অমঙ্গল হতে সেসব নারীর যারা গিঁটে ফুঁ দিয়ে জাদু করে এবং অমঙ্গল হতে হিংসুকের যখন সে হিংসা করে।’
সুরা ফালাকের সারকথা ও শিক্ষার দিক
অসহায়ত্ব ও বিপদ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া এই সুরার মূল বক্তব্য। সুরার বিভিন্ন আয়াতে যে বিষয়গুলোর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে:
- সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে: প্রথম আয়াতে সবকিছুর স্রষ্টার কাছে আশ্রয় চাওয়ার পর অন্য সৃষ্টির সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে পানাহ চাওয়া হয়েছে।
- রাতের অন্ধকার ও অশুভ শক্তি: তৃতীয় আয়াতে রাতের অন্ধকার ও অগোচরে ঘটে যাওয়া বিপদ বা অপরাধ থেকে আগাম সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে।
- কালো জাদু থেকে: চতুর্থ আয়াতে জাদুকর বা গিঁটে ফুঁ দিয়ে জাদু করার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
- হিংসুকের কুদৃষ্টি থেকে: পঞ্চম আয়াতে হিংসুকের হিংসা থেকে বাঁচার দোয়া রয়েছে। জাদুকরের অনিষ্টের মূল কারণও অনেক সময় হিংসা থেকেই হয়ে থাকে।
সুরা ফালাকের ফজিলত ও আমল
সুরা ফালাকের আমল অত্যন্ত বরকতপূর্ণ ও কার্যকরী। হাদিসে এর বিশেষ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে:
- প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর আমল: হজরত উকবা বিন আমির (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি)
- শ্রেষ্ঠ সুরাসমূহের একটি: রাসুল (সা.) হজরত উকবা বিন আমিরকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি সুরা শেখাব না, যেগুলোর মতো সুরা তাওরাত, জাবুর, ইঞ্জিল, এমনকি কোরআনেও নাজিল হয়নি? প্রতি রাতেই তুমি এই সুরাগুলো (সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস) অবশ্যই পড়বে।’
নিয়মিত সুরা ফালাক পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অনিষ্ট, জাদু এবং হিংসুকদের কুদৃষ্টি থেকে মুমিন বান্দাকে নিরাপদ রাখেন।