হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

এইচ-১বি ভিসায় ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের ফি অবৈধ, বাতিল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ট্রাম্প এইচ–১বি ভিসার ফি বাড়ানোয় তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে ২০ মার্কিন অঙ্গরাজ্য। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ওপর যে এক লাখ ডলারের ফি আরোপ করেছিলেন, তা বাতিল করে দিয়েছেন এক ফেডারেল আদালত। বিচারক বলেছেন, এই অর্থ আদায়কে জরিমানা বলা হলেও বাস্তবে এটি একটি কর, যা আরোপের জন্য ট্রাম্প কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন পাননি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন এ রায় দেন। তিনি ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। ট্রাম্প গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এইচ-১বি ভিসার জন্য এক লাখ ডলারের নতুন ফি ঘোষণা করেছিলেন।

এর ফলে, এই ভিসা পাওয়ার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে নির্ভরশীল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর এর বড় প্রভাব পড়েছিল।

মামলায় ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছিল, এই অর্থ কোনো কর নয়; বরং এটি একটি বৈধ আর্থিক জরিমানা। প্রশাসনের দাবি, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দিয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর মনে করা বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করতে পারেন। সেই ক্ষমতার আওতাতেই ফি আরোপ করা হয়েছে।

তবে বিচারক সোরোকিন তাঁর রায়ে বলেন, এক লাখ ডলারের এই অর্থ প্রদানের প্রকৃতি ও বাস্তব প্রয়োগ বিশ্লেষণ করলে এটি যে একটি কর, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। অর্থ প্রদানের নাম পরিবর্তন করলেও এর প্রকৃতি বদলায় না। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন কর আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পের ছিল না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এই ফি বাস্তবায়ন করতে পারে না।

বারাক ওবামার নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক সোরোকিন তাঁর রায়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেরও উল্লেখ করেন। ওই রায়ে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রণীত একটি আইন ব্যবহার করে ট্রাম্প যে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা বাতিল করা হয়। বিচারকের মতে, সেই একই আইনি যুক্তি এইচ-১বি ফি-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অর্থাৎ, অভিবাসন আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট কর আরোপ করতে পারেন না।

রায়ের পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করে আপিলে এই রায় বাতিল হবে। তাঁর ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এমন যেকোনো বিদেশি নাগরিক শ্রেণির প্রবেশ সীমিত করার সুস্পষ্ট আইনি ক্ষমতা রয়েছে, যাদের তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী মনে করেন।’ তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ঠিক সেটাই করেছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। এর বাইরে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। এসব ভিসার মেয়াদ সাধারণত ৩–৬ বছর। ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার আগে বিদেশি কর্মীর জন্য এইচ-১বি ভিসা পেতে নিয়োগদাতাদের বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রায় ২–৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হতো।

এর আগে, এক লাখ ডলারের নতুন ফি ঘোষণা করার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এইচ-১বি কর্মসূচিকে দীর্ঘদিন ধরে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে এটি আমেরিকান কর্মীদের সহায়তা না করে বরং তাদের জায়গায় কম বেতনপ্রাপ্ত ও কম দক্ষ শ্রমিক নিয়োগে ব্যবহৃত হয়। তবে এই ফি যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ছাত্র ভিসায় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অথচ নতুন এইচ-১বি ভিসাধারীদের একটি বড় অংশ সাধারণত এই ছাত্র ভিসাধারীদের মধ্য থেকেই আসে।

নতুন নিয়ম চালুর পর খুব কমসংখ্যক নিয়োগদাতা এক লাখ ডলারের ফি পরিশোধ করেছে। আদালতে মার্চ মাসে জমা দেওয়া নথিতে এক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংস্থাটি মাত্র ৮৫টি ফি গ্রহণ করেছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এমন একটি নতুন ভিসা নির্বাচন পদ্ধতির প্রস্তাব করেছে, যেখানে বেশি দক্ষ ও উচ্চ বেতনপ্রাপ্ত কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এক লাখ ডলারের এই ফি নিয়ে আদালতে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। অন্তত তিনটি পৃথক মামলা এর বিরুদ্ধে করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা করেছে মার্কিন চেম্বার অব কমার্স। সংস্থাটি ওয়াশিংটন ডিসির এক বিচারকের গত ডিসেম্বরের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ওই রায়ে বিচারক ট্রাম্পের ফি নির্ধারণের ক্ষমতা নিয়ে তাদের আপত্তি খারিজ করে দিয়েছিলেন।

মামলাকারী বহু অঙ্গরাজ্যের জোটের নেতৃত্ব দেওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের আরোপ করা অবৈধ ও ব্যয়বহুল এক লাখ ডলারের কর বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উপকৃত হবে। তাঁর মতে, এই কর ছিল এমন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রতিভাবান কর্মীদের আকর্ষণ ও ধরে রাখার সক্ষমতার ওপর আঘাত, যারা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কিনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যকে পাশ কাটিয়ে নতুন পরিকল্পনা ট্রাম্পের

ইরানের অর্থ উপসাগরীয় মিত্রদের দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাইডেনের স্ত্রীকে ৭.৫ ক্যারেটের কৃত্রিম হীরা উপহার দিয়েছিলেন মোদি

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিকে ‘সংকটজনক’ মাত্রায় উন্নীত করল পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুর শরীরে মাংসখেকো মাছির প্রাদুর্ভাব, আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা কানাডার

ইরানের মাত্র ২১-২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে: ট্রাম্প

কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে মার্কিন ভিসা পেল ইরান

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন করতে ৭০ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিল সিনেট

চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ স্বীকার মার্কিন সাংবাদিকের

ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে চুক্তির প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প