হোম > বিশ্ব > ভারত

ঝাড়খন্ডে বিধানসভা অভিমুখে ছাত্রদের মিছিল, পুলিশের লাঠিপেটা-জলকামান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রাঁচিতে ছাত্রদের বিক্ষোভে জলকামান ব্যবহার ও লাটিপেটা করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে আজ সোমবার বিধানসভা অভিমুখে মিছিলের সময় ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ছাত্র বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করে। ঘটনাটি এমন একসময় ঘটল, যখন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন জোর দিয়ে বলেন, লাঠি নয়, সংলাপই পারে সব সমস্যার সমাধান করতে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের কারণে নিজেদের কর্মজীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে অভিযোগ করে ছাত্ররা আজ বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতেই তাঁদের এই আন্দোলন।

অনশনে থাকা ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো বিক্ষোভকারীদের কাছে আবেদন করেছিলেন, পুলিশ বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিধানসভায় পৌঁছানোর নতুন পথ খুঁজে নিতে। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকাতে জলকামান চালালে কয়েকজন ছাত্র জলকামানের প্রবল স্রোতের সামনে দাঁড়িয়ে নাচতে শুরু করেন।

আজ সকালে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার ছাত্র ট্রেন, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে এসে এই বিক্ষোভে যোগ দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র বলেন, ‘সরকারের উচিত আমাদের কথা শোনা এবং জবাব দেওয়া।’

শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন রাঁচির গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজ রাঁচির অধিকাংশ স্কুলও বন্ধ রয়েছে। রাজধানীতে পৌঁছানো ছাত্রদের সংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা হিসেবে পুলিশ জেলার সীমানা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে বাস এবং ব্যক্তিগত যানবাহনও তল্লাশি করছিল।

এদিকে, বিজেপি নেতারাও মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করছেন। এই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ঝাড়খন্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খন্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) পরিচালিত নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ।

আজকের এই মিছিলের আগে বিভিন্ন আন্দোলনকারী সংগঠনের সঙ্গে সরকার-নিযুক্ত কমিটির একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। তবে সেই আলোচনাগুলো ছাত্রদের ১৬ দিন আগে শুরু হওয়া আন্দোলন প্রত্যাহারে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল ষষ্ঠ দফার বৈঠকেও কোনো সমাধান বের হয়নি। ছাত্ররা তাঁদের দাবিতে অনড় থেকে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিষয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের দাবি, তারা ছাত্রদের ‘৯৮ শতাংশ’ দাবি মেনে নিয়েছে এবং আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য তাঁদের অনুরোধ করেছে। তবে ছাত্রদের বক্তব্য, তাঁরা যে ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন, সরকার তার মধ্যে মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে সম্মত হয়েছে।

জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চের নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান জানান, সিবিআই তদন্তের দাবি থেকে তাঁরা কোনোভাবেই সরে আসবেন না। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে এখনও ছয়জন বিক্ষোভকারী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, গতকাল জেপিএসসিতে বড় ধরনের রদবদল হয়। নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথিত অনিয়মের বিষয়ে সিআইডির তলব পাওয়ার পর কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করেন। এর আগে গত ২২ জুলাই জেপিএসসির চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেন।

ভারতে খনিজসম্পদ সম্পর্কিত নতুন আইন নিয়ে মুখোমুখি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো

জলাতঙ্কে গরুর মৃত্যু, দুধের প্রসাদ খেয়ে টিকা নিতে হলো ৪৫০ গ্রামবাসীকে

পশ্চিমবঙ্গে তিন খ্রিষ্টান পরিবারকে ধর্ম ত্যাগে চাপ ও হামলার অভিযোগ

আসামে দুই দিনে বাংলাভাষী মুসলিমদের ১১ শতাধিক বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিল সরকার

যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ডাক না দেওয়ার মুচলেকায় ‘ককরোচদের’ দুই নেতাকে মুক্তি

ভারতে চলমান আন্দোলন তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ, তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের

গুজরাটের কারাগার থেকে গ্যাংস্টার বিষ্ণোইকে কেন নিতে পারছে না মুম্বাই পুলিশ

৭ দিন পর মুক্তি পাচ্ছেন ককরোচ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা

‘ভারতবিরোধী রাবণে’র পোস্টারে ড. ইউনূসের ছবি, রাহুল-মাস্কসহ আছেন আরও যারা