হোম > বিনোদন > গান

সাফল্যের শিখরে কেন ফুলস্টপ, অরিজিৎ ও জাকিরের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

অরিজিৎ সিং এবং জাকির খান। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান যুগ যেখানে অবিরাম কাজ, ক্রমাগত কন্টেন্ট উৎপাদন এবং সারাক্ষণ নিজেকে জাহির করার নেশায় মত্ত, সেখানে দাঁড়িয়ে হুট করে ‘না’ বলাটা অনেকটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের মতো শোনায়। ঠিক এই কাজটিই করে দেখালেন ভারতীয় সংগীত জগতের রাজপুত্র অরিজিৎ সিং এবং জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান জাকির খান। যখন তাঁদের ক্যারিয়ার সাফল্যের মধ্যগগনে, তখন এই আকস্মিক বিরতির ঘোষণা অনুরাগীদের মধ্যে বিস্ময়, উদ্বেগ এবং কৌতূহল—তিনটিই সমানভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠ মানেই কয়েক প্রজন্মের জীবনের সাউন্ডট্র্যাক। গত ২৭ জানুয়ারি একটি আবেগঘন ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি জানান, তিনি আর নতুন কোনো প্লেব্যাক গান গাইবেন না। তিনি লিখেছেন, ‘এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আমাকে এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমি জানাচ্ছি যে, এখন থেকে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আমি আর কোনো অ্যাসাইনমেন্ট নেব না। এই যাত্রাটি অসাধারণ ছিল।’

অন্যদিকে, হায়দ্রাবাদের একটি লাইভ শোতে জাকির খান ঘোষণা করেন, তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত কমেডি থেকে দীর্ঘ বিরতি নিতে পারেন। ব্যক্তিগত সমস্যা এবং স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো ঝোঁকের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়।

সাধারণের চোখে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—যেখানে স্পটলাইট আপনার ওপর স্থির, সেখানে কেন সরে যাওয়া? ভারতীয় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর পবিত্র শঙ্কর বলেন, ‘সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছায় বিরতি নেওয়াটা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয়, দুর্বলতা নয়।’

তাঁর মতে, অরিজিৎ বা জাকিরের মতো পাবলিক ফিগারদের সারাক্ষণ দৃশ্যমান থাকার এবং মানুষের প্রত্যাশা মেটানোর যে মানসিক চাপ নিতে হয়, তা নিঃশব্দে ‘বার্নআউট’ বা মানসিক অবসাদের দিকে নিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিরতি কেবল কাজ ছাড়ার ঘোষণা নয়, বরং নিজের সৃজনশীলতাকে রক্ষা করার একটি কৌশল। শিল্পীদের কাজ মূলত তাঁদের অনুভূতির গভীরতার ওপর নির্ভরশীল। বিরতি তাঁদের সেই অনুভূতিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার, সম্পর্কগুলোকে সময় দেওয়ার এবং নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার সুযোগ দেয়।

সাফল্য মানেই যে অবিরাম দৌড় এবং হইচই—এই ধারণাটি এখন প্রশ্নের মুখে পড়ছে। ডক্টর শঙ্করের কথায়, ‘পজ বাটন টিপলে মস্তিষ্ক আবার নতুন করে চিন্তা করার রসদ পায়। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে নিজেকে পিছিয়ে রাখা আসলে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর কৌশল।’

সেলিব্রিটিরা যখন বিশ্রাম বা বিরতির কথা খোলামেলাভাবে বলেন, তখন তা সমাজের কাছে একটি বার্তা দেয়—‘স্লো ডাউন’ বা ধীরগতিতে চলা কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং এটি আত্মসচেতনতা। অরিজিৎ সিং এবং জাকির খানের এই সিদ্ধান্ত হয়তো আগামীর পেশাদার জগতে কর্ম-জীবনের ভারসাম্য রক্ষার নতুন একটি দিশা হয়ে থাকবে।

তুহিনের সুরে সাফিনার ‘অবুঝ প্রেমের সাতকাহন’

দক্ষিণ কোরিয়ার বিটিএস মেক্সিকোতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, আরও কনসার্ট চেয়ে প্রেসিডেন্টের চিঠি

ক্যারিয়ারের চূড়ায় কেন আকস্মিক অবসরের ঘোষণা অরিজিতের

প্লেব্যাক শিল্পীদের জন্য সুযোগ-সুবিধার দাবি ন্যান্‌সির

সিনেমায় আর গান গাইবেন না অরিজিৎ সিং

কায়া ও হেলালকে নিয়ে ফিরছেন হাবিব ওয়াহিদ

ভালোবাসা দিবসে আসছে ফাহমিদা ও জয়ের ‘চায়ের কাপে’

মিল্টন খন্দকারের কথা ও সুরে গাইলেন আঁখি আলমগীর

কবীর সুমনের কথা ও সুরে সিনেমায় আসিফের গান

এ আর রাহমানের অভিযোগের পাল্টা যুক্তি দিলেন শান