ঢাকা: বাংলা ফ্যান্টাসি সিনেমার রাজকুমার নায়ক ওয়াসিম মারা গেছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। ৭১ বছর বয়সী এই ‘ড্যাশিং সুপারস্টার’ বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারতেন না। ঘরেই বিশ্রামে সময় কাটছিলো তাঁর।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রাত ১১টার পর তাঁকে রাজধানীর শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকেরা ওয়াসিমকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, ফুসফুস, উচ্চ রক্তচাপ ও চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
আজ রোববার দুপুরে গুলশান আজাদ মসজিদে ওয়াসিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে, জানিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।
মোহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ সিনেমা দিয়ে নায়ক হিসেবে রূপালি পর্দায় অভিষেক হয় ওয়াসিমের। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় এস এম শফী পরিচালিত ‘দি রেইন’। সিনেমাটি তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। ‘দি রেইন’ এ ওয়াসিমের বিপরীতে ছিলেন অলিভিয়া। এটি ৪৬টি দেশে প্রদর্শিত হয়েছিল। পেয়েছিলেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
এরপর ‘বাহাদুর’, ‘লুটেরা’, ‘লাল মেম সাহেব’, ‘বেদ্বীন’ সিনেমাগুলোতেও তিনি অলিভিয়ার সঙ্গে অভিনয় করেন। ‘রাজ দুলালী’ ছবিতে শাবানার সঙ্গে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলো। অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে ওয়াসিম অভিনয় করেছেন ‘সওদাগর’, ‘নরম গরম’, ‘আবেহায়াত’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’, ‘পদ্মাবতী’, ‘রসের বাইদানী’সহ বেশকিছু সিনেমায়।
অভিনয়ে আসার আগে ওয়াসিম বডি বিল্ডিং করতেন। ১৯৬৪ সালে বডি বিল্ডিংয়ের জন্য তিনি ‘মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান’ খেতাব অর্জন করেন। তখন তাঁর নাম ছিলো মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ। এরপর তিনি যুক্ত হন চলচ্চিত্রে। কাজ করেছেন সহকারী পরিচালক হিসেবে। ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ সিনেমায় ছোট এক চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন।
তাঁর অভিনয় দেখে পরিচালক মোহসীন তাঁকে নায়ক হওয়ার প্রস্তাব দেন। ছবির নাম ‘রাতের পর দিন’। এভাবেই ওয়াসিমের অভিনয় শুরু। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ১৫২টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।