চন্দ্রাবতীর গল্প জানতে গেলে ফিরে যেতে হবে আজ থেকে সাড়ে চার শ বছর আগে। কিশোরগঞ্জের পাতুয়ারীতে ছিল চন্দ্রাবতীর নিবাস। মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাস ছিলেন চন্দ্রাবতীর বাবা। কিন্তু চন্দ্রাবতীর নিজেরও আলাদা পরিচয় আছে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম বাঙালি মহিলাকবি তিনি। মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা, রামায়ণ গীতিকা তাঁরই লেখা।
ষোড়শ শতকের এই বিদুষী নারীর নিজের জীবনেও কাহিনির অভাব নেই। পার্শ্ববর্তী গ্রামের আরেক কবি জয়ানন্দের প্রতারণার শিকার হন চন্দ্রাবতী। দুঃখভারাতুর চন্দ্রাবতী এ ঘটনায় বিমর্ষ হয়ে পড়েন ও কঠিন ব্রত গ্রহণ করেন, বাকি জীবন অবিবাহিত থেকে শিবমন্দিরেই আরাধনা করে কাটাবেন। বাবার পূর্বনির্দেশনা অনুযায়ী, নিজ ভাষায় রামায়ণ রচনায় নিজেকে আত্মনিয়োজিত করেন চন্দ্রাবতী।
চন্দ্রবতীকে নিয়ে লেখা হয়েছে একটি গীতিকা। মৈমনসিংহ গীতিকার সেই পালার নাম জয়-চন্দ্রাবতী। পরবর্তী সময়ে আরও অনেক পালায়, গল্পে, কাহিনিতে এসেছে চন্দ্রাবতী প্রসঙ্গ।
২০১৫ সালে সরকারি অনুদান পায় ছবিটি। ওই বছর শুটিংও শুরু হয়। কিন্তু কাজ শেষ হতে হতে মাঝপথে গড়িয়ে গেছে পাঁচ বছর। ২০১৯ সালে সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়ার পর এত দিন আটকে ছিল।
২০১৯ সালের নভেম্বরে ২৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির বিদেশ প্রিমিয়ার হয়। পরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখানো হয় ছবিটি। কিন্তু বাংলাদেশের দর্শকেরা এত দিন দেখতে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে মুক্তি পেল ‘চন্দ্রাবতী কথা’।
চন্দ্রাবতীর জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের পাতুয়ারীতে হয়েছে ছবির বেশির ভাগ শুটিং। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চন্দ্রাবতীর জন্মস্থান ছাড়াও ময়মনসিংহ, নেত্রকোনার অন্যান্য এলাকায় বিভিন্ন ঋতুতে শুটিং হয়।
চন্দ্রাবতী কথার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলরুবা দোয়েল। আরও আছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ, কাজী নওশাবা আহমেদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, গাজী রাকায়েত, আরমান পারভেজ মুরাদসহ অনেকে।
দেখুন ‘চন্দ্রাবতী কথা’ ছবির ট্রেলার: