হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ছে ইউআইইউ

অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কাশেম

অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম মিয়া, উপাচার্য, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উচ্চশিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী জনশক্তি গড়ে তুলতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ অবদান রাখছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, অবকাঠামো কিংবা একাডেমিক কার্যক্রমের পরিধি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য মাপা উচিত নয়। জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবনী সক্ষমতা, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কার্যকর সংযোগ এবং সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সামর্থ্যই প্রকৃত মাপকাঠি।

এই লক্ষ্যে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) উচ্চশিক্ষাকে শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার গণ্ডিতে আটকে না রেখে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বাস্তব দক্ষতার সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে শুধু ডিগ্রি তুলে দিই না, তাদের জ্ঞানী, দক্ষ, নৈতিক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি, যাতে তারা কর্মক্ষেত্রে সফল হয়ে পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব বাড়ছে। তাই ইউআইইউ এগুলোকে উচ্চশিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। আমাদের শিক্ষক ও গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়নসহ সমকালীন নানা বিষয়ে গবেষণা করছেন। আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রকাশের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে জোর দিচ্ছি। গবেষণা শুধু জার্নালে প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এর ফল যেন সরকার, ইন্ডাস্ট্রি ও সমাজের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগে, সে বিষয়েও আমরা সমান মনোযোগ দিচ্ছি।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে ইউআইইউ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। আন্তর্জাতিক রোবোটিকস, রোভার ও আন্ডারওয়াটার রোবট প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মেধা ও সক্ষমতা তুলে ধরছে। এটি শুধু প্রতিযোগিতার জয় নয়, তরুণ প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও প্রযুক্তিগত দক্ষতারও প্রতিফলন। সঠিক শিক্ষা, দিকনির্দেশনা, গবেষণার সুযোগ এবং অনুকূল পরিবেশ পেলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করা উচিত।

ইউআইইউতে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানো হয় কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীল কাজ আরও কার্যকর করা যায়। একই সঙ্গে ভুল তথ্য, নকল বা অনৈতিক ব্যবহার, পক্ষপাত এবং শিক্ষাগত সততার ঝুঁকি কীভাবে সামলাতে হয়, সে বিষয়েও বাস্তব ধারণা দেওয়া হয়।

উচ্চশিক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ একাডেমিক শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা। চাকরির বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট গড়ে তোলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। ইউআইইউ শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ জোর দেয়। শিল্প খাত ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করতে করপোরেট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম, ফিল্ড ভিজিট ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়। শিল্প খাতের চাহিদা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় পাঠ্যক্রমও নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনমতো আধুনিকায়ন করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, পেশাগত আচরণ ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করে।

আমার মতে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রির শক্তিশালী অংশীদারত্ব জরুরি। ইন্ডাস্ট্রি জানে, তার কী দক্ষতা দরকার, আর বিশ্ববিদ্যালয় সেই জ্ঞান ও দক্ষতা গড়ার পরিবেশ দিতে পারে। যৌথ গবেষণা, শিল্প খাতভিত্তিক প্রকল্প, ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি আর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা পাবে, শিল্প খাতও পাবে নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ভিত্তিও মজবুত হবে।

বাংলাদেশ এখন জ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। এ পরিবর্তনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু জ্ঞান বিতরণের প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকলে চলবে না। গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা, নৈতিকতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণেও সক্রিয় থাকতে হবে।

ইউআইইউ জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছে।

আধুনিক উচ্চশিক্ষার ঠিকানা

দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার গড়ছে আইএসইউ

শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার যোগসূত্র গড়ছে বিইউএফটি

জবিতে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোর্সে ভর্তি

নাসার রোভার চ্যালেঞ্জে ৫ শিক্ষার্থীর দল

চুয়েটের অচলাবস্থার মধ্যেই মুক্তি পাচ্ছে শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’

জাল শিক্ষা সনদ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার আহ্বান এপিইউবির

রসায়নের রসে ডুব

লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ শতাংশ বৃত্তির সুযোগ

ইসরাতের নতুন ঠিকানা অক্সফোর্ড