হোম > শিক্ষা

র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

রাহুল শর্মা, ঢাকা

মানসম্মত গবেষণা, কর্মমুখী শিক্ষা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এর স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে যোগ্য ও সক্ষম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু, পাঠক্রম উন্নয়ন, প্রশিক্ষণসহ একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) ২০২৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৪টি বেসরকারি। অন্যদিকে, টাইমস হায়ার এডুকেশনের (টিএইচই) ২০২৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ের মূল তালিকায় জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশের ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৯২ সালে দেশে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করে। বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৭। এগুলোর মধ্যে কয়েকটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ৫৪টি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইউজিসির ৫০তম বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪১৪ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ জন, ছাত্রী ১ লাখ ২৫ হাজার ১০ জন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। ইতিমধ্যে দেশের যোগ্য ও সক্ষম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর বাইরেও আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সামগ্রিক উচ্চশিক্ষায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। ইউজিসির ৫০তম বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ছিলেন ২৩ হাজার ১১৩ জন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ২১ হাজার ৩০৩ জন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ১৭ হাজার ৩২৫ জন এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ১২ হাজার ২২০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন।

কিউএস তালিকায় দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বে ৯০১ থেকে ৯৫০তম অবস্থানের মধ্যে রয়েছে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি রয়েছে ১ হাজার ১ থেকে ১ হাজার ২০০তম অবস্থানের মধ্যে। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) রয়েছে ১ হাজার ৪০১তম বা তার পরের অবস্থানে।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের (টিএইচই) ২০২৭ সালের বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়েও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উল্লেখযোগ্য। মোট নয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মূল র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে এআইইউবি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি রয়েছে বিশ্বের ৮০১ থেকে ১ হাজারতম অবস্থানের মধ্যে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) রয়েছে ১ হাজার ১ থেকে ১ হাজার ২০০তম অবস্থানের মধ্যে। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি রয়েছে ১ হাজার ২০১ থেকে ১ হাজার ৪০০তম অবস্থানের মধ্যে। আর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ও ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০-এর মধ্যে। এ ছাড়া ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২০০০-এর মধ্যে রয়েছে।

এশিয়ার র‍্যাঙ্কিংয়েও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। কিউএসের ২০২৬ সালের এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ১৪৯তম স্থান অর্জন করে। আগের বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল ১৫৫তম। একই তালিকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২২১তম এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ২৬০তম স্থানে রয়েছে। এশিয়ার ১ হাজার ৫০০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়নে বাংলাদেশের ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছিল, এগুলোর মধ্যে ২১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষাবিদেরা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, গবেষণা, কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য ইত্যাদি কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাচ্ছে।

শিক্ষাবিদেরা আরও বলেছেন, তবে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান এক নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক সাফল্য দিয়ে পুরো বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের মান বিচার করা যথাযথ হবে না।

জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, দেশে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত উচ্চশিক্ষা দিচ্ছে। তারা শিক্ষার মান উন্নয়ন, গবেষণা, কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য ইত্যাদি কারণে এগিয়ে যাচ্ছে।

মনজুর আহমেদ আরও বলেন, তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে পুরো বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের মান বিচার করা যথাযথ হবে না। ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ তৈরি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের উচ্চশিক্ষার জন্য সামগ্রিক উন্নয়ন হবে।

আইএইচটি ও ম্যাটসে ভর্তি, আবেদন শেষ ৬ নভেম্বর

আধুনিক উচ্চশিক্ষার ঠিকানা

দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার গড়ছে আইএসইউ

শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার যোগসূত্র গড়ছে বিইউএফটি

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ছে ইউআইইউ

ড্যাফোডিল ক্যাপ্টেনস কাপ গলফ টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে অনুমোদন পেল নতুন ৪ পাঠ্যবই

পদোন্নতির দাবিতে মাউশিতে প্রভাষকদের অবস্থান কর্মসূচি

জবিতে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোর্সে ভর্তি

তুমি আজ পর্যন্ত কিছুই ছুঁতে পারোনি!