টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাস বয়সী ফাতিহা নামের এক শিশুকে নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার দুপুরে। বিষয়টি স্বীকারও করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, ভুলবশত এমনটি হয়েছে। তবে এতে শিশুটির কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুপুর ১২টার দিকে স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম নিয়মিত টিকার পরিবর্তে ওই শিশুকে জলাতঙ্কের টিকা প্রয়োগ করেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী টিকাটি দেওয়ার কথা ছিল স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর। অজ্ঞাত কারণে তাঁকে দিয়ে টিকা না দিয়ে পিআরএলে (অবসর-উত্তর ছুটি) থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুমকে ডেকে এনে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান আজাদ।
এক মাস বয়সী শিশু ফাতিহার মা মৌ আক্তার বলেন, তিনি হামে আক্রান্ত শিশু ফাতিহাকে নিয়ে নিয়মিত টিকা দিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে নিয়মিত টিকা দিয়ে থাকেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরু। কিন্তু তিনি অনুপস্থিত থাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান আজাদ পিআরএলে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুমকে ডেকে আনেন।
মৌ আক্তার আরও বলেন, নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ায় তাঁর সন্তান ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাফিলতিকে দায়ী করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে পিআরএলে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের টিকা প্রয়োগের ঘটনাটি ঘটেছে ভুলবশত। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান আজাদ নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, এটি অসতর্কতামূলক অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ভুল। আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। তবে নিয়মিত টিকার পরিবর্তে এই টিকা দেওয়ায় শিশুর কোনো সমস্যা হবে না। তারপরও পরিবারের সদস্যদের তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছেন।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন এফ এম মাহবুবুল আলম বলেন, এক মাস বয়সী একটি শিশুকে ভুল করে অন্য টিকা পুশ করার ঘটনাটি তিনি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এক মাস বয়সে একটি শিশুকে ভুলবশত যে টিকা দেওয়া হয়েছে, তাতে কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তারপরও শিশুটিকে তাঁরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিষয়টি তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।