টাঙ্গাইলের সখীপুরে নির্বাচনী পথসভায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কেঁদেকেটে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ভোট চাওয়ার ঘটনায় যুবদল নেতা নূর-ই-আজমকে শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। গতকাল সোমবার ঢাকায় গিয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তিনি শোকজের জবাবও দিয়েছেন। পরে রাতে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নূর-ই-আজম নিজেই আজকের পত্রিকাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
নূর-ই-আজম সখীপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নেতা-কর্মী সূত্রে জানা গেছে, ২৪ জানুয়ারি বিকেলে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের খুইংগারচালা এলাকায় বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের নির্বাচনী পথসভা ছিল। ওই পথসভায় নূর-ই-আজম বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। আহমেদ আযম খানকে নিজের রাজনৈতিক ‘বাবা’ উল্লেখ করে তিনি এলাকাবাসীর কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ভোট চেয়ে কান্নাকাটির ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর এমনভাবে আবেগ প্রকাশকে ‘অভিনয়’ বলে মন্তব্য করেন।
জানতে চাইলে নূর-ই-আজম বলেন, ‘শোকজ এবং ভিডিওতে করা মন্তব্যগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার নামে ১১টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। কয়েকবার জেল খেটেছি। ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম, সভাপতি ছিলাম। আমি অভিনয় করে কোনো বক্তব্য দিইনি। যা বলেছি, সব মন থেকেই বলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভিডিওর মন্তব্যগুলো প্রতিপক্ষরা ভুয়া আইডি দিয়ে করেছে। তারপরও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি।’
সখীপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নূর-ই-আজমের বক্তব্যের ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত প্রতিপক্ষের লোকজন ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ওই ভিডিওতে অধিকহারে নেতিবাচক মন্তব্য করে। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আসার কারণে সম্ভবত তাঁকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে নূর-ই-আজম নিজের ফেসবুকের মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।