সিরাজগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় মো. সোহেল (৩৫) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় যুবলীগের এক নেতাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আজ রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবার রাতে এক গৃহবধূ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি করেন। পরে পুলিশ মো. সোহেলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার সোহেল সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি পৌরসভার দত্তবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে জেলা যুবলীগের নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. হোসেনকে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর স্বামী শাহজাহান আলী সদরের কোবদাসপাড়া আক্কার মোড় এলাকায় মনোহারী ব্যবসা করেন। গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার নাজমুল ইসলাম আলোচনার জন্য তাঁদের বাড়িতে যান। সে সময় শাহজাহান আলী বাড়িতে না থাকায় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
এ সময় আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে নাজমুল ও বাদীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরিবারের সদস্যরা এতে আপত্তি জানালে আসামিরা হুমকি দিয়ে নাজমুল ইসলামকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে আক্কার মোড় এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় এবং ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, জীবন রক্ষার জন্য নাজমুল ইসলাম পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা জানালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর থেকে আসামিরা মোবাইল ফোনে টাকার দাবিতে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আসামিরা বাদীর বাড়ির সামনে গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁরা হুমকি দেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছি না।’
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান বলেন, চাঁদাবাজির মামলায় এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আজ রাতে আদালতে সদর থানার জিআরও এএসআই জুয়েল বলেন, বাদীর কোনো আপত্তি না থাকায় ছাত্রদল নেতা মো. সোহেলকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। বাদীর সঙ্গে এখনো কথা বলতে পারিনি। যদি বিষয়টি সত্য হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’