যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আলোচনায় আসা সিরাজগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর-রশিদকে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে খাদ্য অধিদপ্তরে ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
গতকাল রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান খানকে সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২৬ অক্টোবরের মধ্যে হারুন অর-রশিদকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ২৭ অক্টোবর থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য করা হবে।
জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৬ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা হয়। মামলার তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর-রশিদের নামও আলোচনায় আসে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল জানা যায়নি।
সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবরের পর থেকে হারুন অর-রশিদ কর্মস্থলে আসছেন না। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।