সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে সোহরাব হোসেন সরদার নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সাতক্ষীরার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি সোহরাব হোসেন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, সম্পর্কে প্রতিবেশী দাদা হওয়ায় কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী গ্রামের সোহরাব হোসেন (৫৮) চার বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে মাঝেমধ্যে খেলাধুলা করতেন। ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে উঠানে খেলা করার একপর্যায়ে আসামি ভুক্তভোগী শিশুকে কৌশলে তাঁর ঘরে নিয়ে গলা চেপে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। সন্ধ্যায় শিশুটির বিশেষ স্থানে যন্ত্রণা শুরু হলে বিষয়টি সে তার মাকে জানায়। একপর্যায়ে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই বছরের ৪ মার্চ শিশুটির মা বাদী হয়ে সোহরাব হোসেনকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
একই দিন সাতক্ষীরা আদালতের বিচারক মাসুমা আক্তার শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। একই দিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জাহিদুল আলম সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে আসামি গ্রেপ্তারের পর থেকে জেলহাজতে ছিলেন।
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি শেখ আলী আশরাফ জানান, ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আসামি সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মজিদ জানান, তিনি এই রায়ে সন্তুষ্ট নন। আপিলের জন্য তাঁর মক্কেল উচ্চ আদালতে যাবেন।