রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের ফলাফলে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাজারো প্রার্থীর আবেদন, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার পর ফল প্রকাশের তারিখ একাধিকবার পরিবর্তন এবং একই প্রার্থীর নাম নির্বাচিত, অপেক্ষমাণ ও রিজার্ভ তালিকায় রাখার অভিযোগ করেছেন নিয়োগপ্রত্যাশিরা।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক নিয়োগপ্রার্থী। তবে কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২২ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ যাচাই-বাছাই ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এরপর গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে ফলাফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রার্থী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিপুলসংখ্যক নিয়োগপ্রত্যাশি আবেদন করেন। পরে তাঁদের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর ফল প্রকাশের তারিখ কয়েক দফা পরিবর্তন করা হয়। একপর্যায়ে গতকাল ছুটির দিনে গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে একই ব্যক্তির নাম নির্বাচিত, অপেক্ষমাণ ও রিজার্ভ হিসেবে দেখা গেছে।
কাবিলপুর ইউনিয়নের প্রার্থী আরফানুল হক বলেন, ‘ভাইভা ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় আমি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। এরপরও আমাকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। নিশ্চয়ই অনিয়ম হয়েছে। না হলে আমার নাম নির্বাচিত তালিকায় থাকত।’
রামনাথপুর ইউনিয়নের প্রার্থী হাবিব বলেন, ‘পরীক্ষা দেওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ফলাফল হবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর নানা অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।’
বড় আলমপুর ইউনিয়নের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছভাবে নিয়োগের আশা করেছিলাম। ফলাফল নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।’
রায়পুর ইউনিয়নের প্রার্থী রুহুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জামায়াত ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পরীক্ষার নামে এ ধরনের টালবাহানা চাই না।’
মদনখালী ইউনিয়নের প্রার্থী মনিরা বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু ফলাফল নিয়ে যে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। স্বচ্ছভাবে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানাই।’
পৌরসভার প্রার্থী মরিয়ম বলেন, ‘আমরা অনেক আশা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। ফলাফল নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটির সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানাই।’
এদিকে নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিলু সরকার। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
পীরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অনিয়ম হয়নি তবে ওয়েবসাইটে ভুল হয়েছে তা সংশোধন করে দেওয়া হবে।’
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারির বিষয়ে আমি কারো কোনো তদবির শুনি নাই। শতভাগ স্বচ্ছতায় নিয়োগ হয়েছে।’