রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের চিকলীর দোয়ালীপাড়া মোড়ে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এনতাজুল ইসলাম। তিনি ঠাকুরগাঁওগামী কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা সাইমুন পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া উপজেলা রাজাগাঁও গ্রামে। তাঁর দাবি, সাইমন পরিবহনটি একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে হঠাৎ ডান দিকে চাপলে তৃপ্তি পরিবহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা হয় এনতাজুল ইসলাম সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁরা চার-পাঁচজনের একটি দল ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার রাজাগাও এলাকা থেকে বেশ কিছুদিন আগে কুমিল্লায় ধান রোপণের কাজে যান। সেখানে কাজ শেষে সাইমুন পরিবহনে বাড়ি ফিরছিলেন। আজ মঙ্গলবার মহাসড়কের চিকলী দোয়ালীপাড়া মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে ডান দিকে চাপলে আরেকটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি এনজাতুলের সঙ্গী ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘বাবা, কিছু বুঝার গোতে বিকট শব্দ হয়। মাথা ফাটি গেইছে। গাড়ি থাকি নামি দেখি হামার গাড়ি আরেকটা গাড়ির ভেতর ঢুকি আছে। যারা পেছনোত আছলো, তারা ভালো আছে। আল্লাহ রহমত আছলো বাঁচি গেছুন। মুই কুমিল্লা গেছনু ধান কাটির জন্য।’
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী ঠাকুরগাঁওগামী সাইমন পরিবহনের সঙ্গে সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা তৃপ্তি পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন ও তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর একজন মারা যান। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মহাসড়কে তারাগঞ্জের দোয়ালীপাড়া মোড়ে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মাহাবুব মোরশেদ বলেন, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা তৃপ্তি পরিবহনের সহকারী। পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য জনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল মিয়া বলেন, মরদেহ দাফনকাফনের জন্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারগুলোকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে।