হোম > সারা দেশ > রংপুর

রানা প্লাজায় ‘অলৌকিকভাবে’ বেঁচে ফিরলেও ফেরি দুর্ঘটনায় পদ্মায় হার মানলেন নাসিমা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নাসিমা বেগম (৪০)। ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও দেশবাসীর মনে দগদগে। সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ৭২ ঘণ্টা আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম। কিন্তু ১২ বছর পর সেই নাসিমাই হার মানলেন পদ্মার শীতল জলের কাছে। গত বুধবার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন জীবিকার জন্য লড়াই করে যাওয়ার এই নারী।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী নাসিমা বেগম। স্বামী নুর ইসলামের মৃত্যুর পর দুই সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে গিয়েছিলেন চাকরির সন্ধানে। কিন্তু মাসখানেক চেষ্টার পরও ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি। ঈদ উদযাপনের জন্য গিয়েছিলেন ভাগনির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে।

গত ২৫ মার্চ বিকেলে ভাগনি আজমিরা (যিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন), ভাগনি জামাই আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমানকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বাসে রওনা হন নাসিমা। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে সবাই তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।

নাসিমা বেগমের জীবন ছিল লড়াইয়ের গল্প। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁকে যখন উদ্ধার করা হয়েছিল, তখন পুরো দেশ তাঁর বেঁচে ফেরাকে এক অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখেছিল। দীর্ঘ সময় মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও তিনি ফিরে এসেছিলেন সন্তানদের জন্য। কিন্তু এবারের ভাগ্য আর সহায় হলো না। যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল সাভারের কারখানায়, তার সমাপ্তি ঘটল পদ্মার গভীর তলে।

নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু জানান, অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় গাড়িটি আবারও ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে বড় কোনো ক্ষতি না হওয়ায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে নাসিমা ও তাঁর স্বজনদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

নাসিমার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত হন এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন আহত হন।

জুলাই সনদ নিয়ে গড়িমসি করলে আন্দোলন: আজহারুল

গঙ্গাচড়ায় সহিংসতার মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে রসিকের অভিযান

কামড় দিতেই আইসক্রিম থেকে বেরিয়ে এল কেঁচো, জরিমানা ৩০ হাজার টাকা

‘রাফার আব্বু তুমি আমারে মাফ করিয়া দিয়ো’

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৫ দিন ধরে বন্ধ সব ফিলিং স্টেশন, চালকদের ভোগান্তি

মাদক বিক্রির সময় জনতার হাতে কারবারি আটক, পুলিশে সোপর্দ

গঙ্গাচড়ায় জমি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৯

ঢাকা থেকে ঈদে গ্রামের বাড়ি এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

রংপুরে এনসিপি নেতার পদত্যাগ