এক সময় চাষাবাদের জন্য কৃষকের অবলম্বন ছিল গরুর হাল। একই জমিতে সারি বেঁধে হাল চাষ করা হতো। একটি জমিতে একসঙ্গে চার/পাঁচটি পর্যন্ত গরুর হাল দেখা যেত। ট্রাক্টর–পাওয়ার টিলার আসায় হারিয়ে যেতে বসেছে গরুর হাল। তবে মানুষের মন থেকে লাঙল–জোয়ালের স্মৃতি এখনো মুছে যায়নি। গরু না থাকলেও ঘোড়া দিয়ে টানা হচ্ছে লাঙ্গল। চাষকৃত জমি সমান করতে ঘোড়া দিয়ে মই দিচ্ছেন চরাঞ্চলের কৃষকেরা।
উপজেলার অনন্তরাম গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের বলেন, জমি চাষ, চারা রোপণ, ধান কাটা ও মাড়াই, আগাছা পরিষ্কারসহ নানা কাজে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এখনো কাজে লাগছে গরু বা ঘোড়ার হাল। চাষ করা জমি সমান করা, অল্প পরিমাণের জমি চাষাবাদ, বীজতলা প্রস্তুত করতে গরুর হাল দরকার। তাই কিছু মানুষ এখনো গরুর হাল রেখেছেন। তবে চরাঞ্চলে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন বেশি। জমি চাষ ও সমান করতেও ব্যবহার করা হচ্ছে ঘোড়া।
গরু দিয়ে হাল চাষ করেন আব্দুস সালাম। এটাই তাঁর পেশা। তিনি বলেন, হাল টানা গরু পোষা লোকসান। তবুও মাঝে মাঝে ডাক পড়ে। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরুর হাল দিয়ে চাষ করলে মজুরি ৫০০ টাকা পাওয়া যায়। অনেক বেশি সময় লাগে বলে মানুষ টিলার দিয়ে চাষ করে। মৌসুমে চাহিদা থাকলেও এখন তেমন কদর নেই।
তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করেন জয়নাল মিয়া। তাঁর ভাষায়, গরুর হাল পাওয়া যায় না। তাই ঘোড়া দিয়ে জমি সমান করছি। জমি সমান করলে পানি ধরে রাখা সহজ হয়।