বিড়ি শিল্প বাঁচাতে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির করা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও চার দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে বৃহত্তর রংপুর বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর নগরীর কাচারি বাজার জিরো পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি, বিড়ির ওপর অর্পিত অগ্রিম ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার, বিড়ি শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিড়ি কারখানার লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন বিড়ি শিল্পের শ্রমিকেরা।
মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা বলেন, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে লাখ লাখ শ্রমিক বিড়ি শিল্পে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অথচ বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ষড়যন্ত্রে দেশের প্রাচীন এ শিল্প আজ ধ্বংসের পথে রয়েছে। প্রস্তাবিত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের ওপর কোনো প্রকার শুল্কারোপ করা হয়নি।
বিড়ির মূল প্রতিযোগী নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম মাত্র এক টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সিগারেট বাজারের ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের। এসব নিম্নস্তরের সিগারেটের সিংহভাগই বিদেশি কোম্পানির দখলে। তাই নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্যস্তর ও শুল্ক বৃদ্ধি করতে হবে।
শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, বিড়ি শতভাগ দেশীয় প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প হলেও এতে অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ আর সিগারেটে অগ্রিম আয়কর মাত্র ৩ শতাংশ। এ বৈষম্যমূলক অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকদের অন্নসংস্থানের একমাত্র মাধ্যম এই বিড়ি শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন। এ সময় বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম কে বাঙালি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সহ সভাপতি নাজিম উদ্দিন, কার্যকরী সদস্য আনোয়ার হোসেন, সদস্য লুৎফর রহমান প্রমুখ।