রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার দুর্গম করল্যাছড়ি গ্রামে উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় এলজিইডি প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে কয়েক মাস আগে একটি কালভার্ট নির্মাণ করলেও স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বড় ঝিরির ওপর নির্মিত ছোট আকারের এই কালভার্টের পরিবর্তে টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করল্যাছড়ি, মহালছড়ি, বাগছড়ি, উত্তর করল্যাছড়িসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ এই ঝিরি। বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোত বেড়ে গেলে পথটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, সেখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হবে। কিন্তু বড় ঝিরির ওপর ছোট একটি কালভার্ট নির্মাণ করায় পানির প্রবাহ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালভার্টের দুই ধারে ফাঁকা জায়গা রয়েছে। পানির প্রবাহ বাড়লেই চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় নিরোধ রঞ্জন কারবারি অভিযোগ করে বলেন, `কালভার্ট নির্মাণ হলেও মানুষের দুর্ভোগ একটুও কমেনি। বরং পানি বাড়লেই আগের মতোই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এত বড় ঝিরিতে ছোট কালভার্ট নির্মাণ করায় প্রকল্পটি কার্যত কোনো কাজে আসছে না। হয় নতুন সেতু করে দিন, না হয় এই অকেজো কালভার্ট সরিয়ে নিন।'
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কালভার্টের দুই পাশের মাটি পানির স্রোতে ধসে যাওয়ায় ওঠানামাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, “আমরা ছোট কালভার্ট চাইনি, চেয়েছিলাম একটি টেকসই সেতু। মানুষের কোনো উপকারে না এলে এই কালভার্টের প্রয়োজন নেই। এটি সরিয়ে আমাদের জন্য একটি বড় ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।”
এলাকাবাসীর দাবি, সেখানে একটি উপযুক্ত সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, কৃষকসহ হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
এ বিষয়ে নানিয়ারচর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।