হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

জামায়াতের মঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি

রিমন রহমান, রাজশাহী

মঞ্চে দ্বিতীয় সারিতে বসে ছিলেন মাদক কারবারি বাবু। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি সেতাফুর রহমান বাবু। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ছিলেন। হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় বরখাস্ত হয়েছেন। তিনি যুবলীগের নেতা। গণ-অভ্যুত্থানের পরে তাঁর নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা হয়েছে। ছিলেন পলাতক। হঠাৎ তাঁকে দেখা গেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মঞ্চে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রেলগেট এলাকায় বাড়ি সেতাফুর রহমান বাবুর। সোমবার (৯ মার্চ) মাটিকাটা আদর্শ কলেজ মাঠে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে ইউনিয়ন জামায়াত। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। মঞ্চে ঠিক তাঁর পেছনের সারিতে পাশেই বসে ছিলেন মাদক কারবারি বাবু।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবু আগে পাওয়ার টিলারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ওই সময় হেরোইনের কারবারে জড়িয়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হন। দুই হাতে টাকা উড়িয়ে পরে মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ইউপি সদস্য থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে করা মাদক কারবারিদের এক তালিকায় ৯ নম্বরে সেতাফুর রহমান বাবুর নাম আসে।

ওই প্রতিবেদনে এলাকার তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের একশ্রেণির অসাধু রাজনীতিক মাদক কারবারে জড়িত। তাঁরা ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের কারবার করেন। মাদক কারবার বা চোরাচালান এলাকায় নতুন নতুন মাদকসেবী সৃষ্টি করেছে। এসব মাদকসেবী অর্থের জোগান পেতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বিভিন্ন সময় ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে তিনি ছবি তুলেছেন। ছিলেন মাটিকাটা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মাটিকাটা এলাকায় ভোটকেন্দ্র দখলে নিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে তাঁর নেতৃত্বেই। সেদিনের ওই হামলায় এলাকার বাসিন্দা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম অরণ্য কুসুমের বাবা নজরুল ইসলাম মারা যান। গণ-অভ্যুত্থানের পর নিহত নজরুল ইসলামের বড় ছেলে মাসুম সরকার বাদী হয়ে সেতাফুর রহমান বাবুকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে ওই এলাকায় জিয়া পরিষদের কার্যালয়ও দখল করেছিলেন বাবু। ওই ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের পর আরও একটি মামলা হয়েছে।

মাটিকাটা ইউপির সচিব সাব্বির রহমান বলেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন ইউপি সদস্য সেতাফুর রহমান বাবু। এ কারণে তিনি ইউপি কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। ওই সময় জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। তারপর তাঁকে ইউপি সদস্যের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। তখন থেকেই তিনি বরখাস্ত অবস্থায় আছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গণ-অভ্যুত্থানের পর গোদাগাড়ী ও রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানায় সেতাফুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি আত্মগোপন করেন। হঠাৎ কয়েক দিন আগে তিনি এলাকায় ফিরেছেন। এরপরই তাঁকে জামায়াতে ইসলামীর অনুষ্ঠানমঞ্চে দেখা গেল। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। এত দিন আওয়ামী লীগের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর আশীর্বাদে থাকা এই মাদক কারবারি এখন জামায়াতের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের কাছে ভিড়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।

নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম অরণ্য কুসুম বলেন, ‘আমরা শুনছি যে জামায়াতের এই ইফতার মাহফিল আয়োজনের পুরো টাকা দিয়েছে মাদক কারবারি সেতাফুর রহমান বাবু। তা না হলে তাকে মঞ্চে বসতে দেবে কেন?’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এই সন্ত্রাসী ভোটকেন্দ্র দখলে নিতে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। তাকেই এখন দেখা যাচ্ছে জামায়াতের মঞ্চে, একেবারে এমপির পাশে। এটা খুব দুঃখজনক।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও এলাকার সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে ফোন করা হয়। এ সময় তিনি জানান, গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামানের বাড়ি ওই এলাকায়। এ বিষয়ে তিনিই বলবেন। তারপর তিনি ফোনটি কামরুজ্জামানকে দেন।

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান বলেন, তিনি এটি জানেন যে সেতাফুর রহমান বাবু একজন মাদক কারবারি এবং যুবলীগের নেতা। তবে তিনি মঞ্চে বসার বিষয়টি পরে শুনেছেন বলে দাবি করেন। তাঁকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়নি বলেও তাঁর দাবি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সেতাফুর রহমান বাবুর দুটি মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই এ নিয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, সেতাফুর রহমান বাবুর নামে কোনো মামলা কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা তিনি না দেখে বলতে পারবেন না। থানায় গিয়ে খোঁজ নেবেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে। মাদক কারবারি হলে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও তাঁর ছাড় নেই, যোগ করেন ওসি।

রাজশাহীতে আলাউদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় চান প্রতিমন্ত্রী, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কমিটি

বাঘায় অটোরিকশা-ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: নিয়োগে নীতিমালা মানেন না উপাচার্য

কর্মস্থলে না থেকে ইফতারের জন্য রাজশাহীতে রাকাব কর্মকর্তারা

রাজশাহীতে জামায়াত কর্মী নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

বাঘায় সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল

বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতির মধ্যে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ

চাঁদা না পেয়ে কলেজশিক্ষককে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে পুলিশ পাহারায় জ্বালানি তেল বিক্রি