রাজশাহীর বাগমারার নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আনারুজ্জামান রিপনের খাঁচা থেকে ‘মিঠু’ নামের একটি টিয়া পাখিকে উদ্ধার করার দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের সাঁইধারা গ্রামের মকবুল হোসেনের বাড়িতে প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি বন্য টিয়া পাখি আশ্রয় নেয়। উন্মুক্ত পরিবেশে খাবার ও আদরযত্ন পেয়ে পাখিটি ওই বাড়ি ছেড়ে আর কোথাও যায়নি।
মকবুল হোসেন জানান, তাঁর ছেলের নাম মিঠু। বাড়ির কেউ ‘মিঠু’ নাম ধরে ডাক দিলেই টিয়া পাখিটি সাড়া দিয়ে কাঁধে বা মাথায় এসে বসত। এ কারণে ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে পাখিটির নামও রাখেন মিঠু।
১ জুন সকালে পাখিটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের আফছার আলীর ছেলে ও ইউপি সচিব আনারুজ্জামান রিপন পাখিটিকে খাঁচায় বন্দী করে রেখেছেন। তাঁর কাছে গেলে তিনি মিঠুকে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই অবস্থায় মিঠুকে ফিরে পেতে মকবুল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এদিকে অভিযুক্ত ইউপি সচিব আনারুজ্জামান রিপন টিয়া পাখিটিকে খাঁচায় আটকে রাখার কথা স্বীকার করলেও ভিন্ন দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার শাশুড়ির কাছ থেকে ৫০০ টাকায় পাখিটি আমি কিনে নিয়েছি।’
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘টিয়া পাখি মূলত বনভূমির বড় গাছে বাসা বাঁধে। মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে গাছপালা উজাড় হওয়ায় তাদের আবাসস্থল ও অস্তিত্ব আজ বিপন্নপ্রায়। কাজেই টিয়া পাখির বংশবিস্তারের জন্য তাকে খাঁচায় বন্দী না রেখে প্রকৃতির উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে বিচরণের সুযোগ দিতে হবে।’
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহম্মেদ বলেন, ‘সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি আমি জেনেছি। দ্রুত পাখিটিকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’